শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

গবেষক ও সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান নিজামীর জীবনাবসান

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
প্রকাশিত: ০৬ মার্চ ২০২৬, ০৩:২২ এএম

শেয়ার করুন:

গবেষক ও সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান নিজামীর জীবনাবসান

নিভে গেল বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। গবেষক, ভাষাতত্ত্ববিদ, কবি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান নিজামী আর নেই। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে রংপুরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাহমুদুল হাসান নিজামী রংপুরের তারাগঞ্জে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে সেখান থেকে বাস ধরার জন্য বের হওয়ার সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।


বিজ্ঞাপন


তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রংপুরের কবি, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। শুক্রবার তাঁর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে।

মাহমুদুল হাসান নিজামী একাধারে কবি, সাংবাদিক, গীতিকার ও সুরকার ছিলেন। তিনি জাতীয় কবিতা মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা এবং জাতীয় সাংবাদিক মঞ্চের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি দৈনিক ডেসটিনি এবং দৈনিক দেশজগত পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

আরবি, ফার্সি, উর্দু ও ইংরেজিসহ একাধিক ভাষায় তাঁর অসাধারণ দখল ছিল। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর পর বহু ভাষায় এমন পারদর্শী মানুষ বাংলা সাহিত্যে বিরল বলে গণ্য করা হয়। তিনি বিশ্বসাহিত্যের ধ্রুপদী কবি শেখ সাদী, ফরিদ উদ্দিন আত্তার ও ইমরুল কায়েসের কবিতাগুলোর প্রথম বাংলা কাব্যানুবাদ করে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন।

মাহমুদুল হাসান নিজামীর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় ১৪০টি। এছাড়া তিনি পাঁচ হাজারেরও বেশি কবিতা ও গান রচনা করেছেন। বাংলা সাহিত্যে বানান সংস্কার ও গবেষণার নতুন ধারা তৈরিতে তিনি আমৃত্যু কাজ করেছেন।


বিজ্ঞাপন


১৯৭১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার কালাপানিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মাহমুদুল হাসান নিজামী। তাঁর বাবা মরহুম মাওলানা আবদুল্লাহ ছিলেন অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং মা মরহুমা মায়মুনা খাতুন ছিলেন গৃহিণী। নিজামী নিজেও নিজ এলাকায় স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

তাঁর মৃত্যুতে দেশের সাহিত্য, গবেষণা ও সাংবাদিকতা অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন সামাজিক, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন তাঁর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছে।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর