বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

হবিগঞ্জে পেঁয়াজের সঙ্গে আলু-ধনিয়া চাষ, কৃষক লাভবান

জেলা প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৫ মার্চ ২০২৬, ১১:২৭ এএম

শেয়ার করুন:

হবিগঞ্জে পেঁয়াজের সঙ্গে আলু-ধনিয়া চাষ, কৃষক লাভবান
ক্ষেতে কৃষক মো. দিদার হোসেন।

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার দ্বিমুড়া গ্রামে তাহেরপুরি জাতের পেঁয়াজের সঙ্গে আলু ও ধনিয়া চাষ করে সফলতার নজির গড়েছেন কৃষক মো. দিদার হোসেন। আধুনিক পদ্ধতি ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে তিনি চলতি মৌসুমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লাভ করেছেন, যা এলাকায় অন্য কৃষকদের মধ্যেও নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

জানা গেছে, এ বছর নিজ বাড়ির পাশে প্রায় ৩০ শতক জমিতে তাহেরপুরি জাতের পেঁয়াজের আবাদ করেন দিদার হোসেন। উন্নত বীজ নির্বাচন, সুষম সার প্রয়োগ, সময়মতো সেচ এবং রোগবালাই দমনে সচেতন ব্যবস্থাপনার ফলে তার ক্ষেতে পেঁয়াজের ফলন হয়েছে আশানুরূপ। ওই পরিমাণ জমিতে প্রায় ৪০ মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হওয়ায় তিনি বাজারে ভালো দামে বিক্রি করতে সক্ষম হন।


বিজ্ঞাপন


081dff60-467c-4344-a002-1b30709a0a33

এদিকে, স্থানীয় বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল থাকায় কৃষকরা উৎপাদিত পেঁয়াজ ভালো দামে বিক্রি করতে পারছেন। গ্রামের অন্যান্য কৃষকরাও তার সাফল্যে উৎসাহিত হয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, ধান ও অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি পেঁয়াজ চাষ করলে বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেঁয়াজের আমদানি নির্ভরতা কমাতে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো জরুরি। সে ক্ষেত্রে হবিগঞ্জের মতো উর্বর অঞ্চলে তাহেরপুরি জাতের পেঁয়াজ চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

স্থানীয়দের মতে, দিদার হোসেনের এই সাফল্য প্রমাণ করেছে যে পরিকল্পিত চাষাবাদ, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং কৃষি বিভাগের সহযোগিতা থাকলে অল্প জমিতেও অধিক লাভ সম্ভব। তার এই উদ্যোগ এখন এলাকায় মডেল চাষ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে এবং তরুণ কৃষকদের মধ্যেও নতুন করে কৃষিতে আগ্রহ তৈরি করছে।


বিজ্ঞাপন


কৃষক মো. দিদার হোসেন জানান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শামিমুল হক শামীম তাকে পরামর্শে দিলে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পেঁয়াজ প্রদর্শনী করেন তিনি। তাহেরপুরি জাতের পেঁয়াজের ফলন বেশি এবং সংরক্ষণ ক্ষমতাও ভালো। এ বছর উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হলেও ফলন বেশি হওয়ায় লাভের পরিমাণও বেড়েছে। পেঁয়াজের সঙ্গে তিনি আলু ও ধনিয়া চাষ করেও ভালো ফলন পেয়েছেন।

5374dafe-1c87-495f-9bc0-ca81c85160cf

দিদার হোসেন আরও জানান, প্রতি মণ পেঁয়াজ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় তিনি মোট খরচ বাদ দিয়ে উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জন করেছেন। তিনি আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে এই জাতের পেঁয়াজ চাষের পরিকল্পনা করছেন।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শামিমুল হক শামীম জানান, তাহেরপুরি জাতের পেঁয়াজ বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটির সঙ্গে বেশ মানানসই। এই জাতের পেঁয়াজ দ্রুত বৃদ্ধি পায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক বেশি এবং বাজারে চাহিদাও ভালো। ফলে কৃষকরা সঠিকভাবে চাষ করলে সহজেই লাভবান হতে পারেন। যার প্রমাণ দেখালেন কৃষক মো. দিদার হোসেন। তার সফলতা দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী হয়েছেন।

 

বাহুবল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চিন্ময় কর অপু বলেন, আমরা কৃষকদের উন্নত জাতের পেঁয়াজ চাষে উৎসাহিত হওয়ার জন্য নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি। দিদার হোসেনের সাফল্য অন্য কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষক তার ক্ষেত পরিদর্শন করে তাহেরপুরি জাতের পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

প্রতিনিধি/টিবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর