রাজশাহীর দুর্গাপুরে ভিজিএফ চালের কার্ড চাওয়ায় পুত্রবধূসহ এক বৃদ্ধাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা সুলতান আলীর মারধরে তারা আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের বর্মপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রাতে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞাপন
আহতরা হলেন মোছা আলিমন বেগম (৬৫) ও তার পুত্রবধূ রেশমা বেগম (২৬)। অভিযুক্তের নাম সুলতান আলী (৪৫)। তারা একই এলাকার বাসিন্দা।
আহত বৃদ্ধার পরিবার জানায়, সকালে স্থানীয় বিএনপি নেতা সুলতান ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চালের কার্ড প্রস্তুতের কাজ করছিলেন। এ সময় ভিকটিম আলিমন তার কাছ থেকে একটি কার্ড চায়। এরপরই কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
আলিমন বেগমের অভিযোগ, কার্ড চাইলে তাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, “তোরা সবাই জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিয়েছিস, তোদের নাতিরা জামায়াতের টোকেন বিতরণ করেছে। তোরা এই কার্ড পাবি না।” একপর্যায়ে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
এই সময় তার পুত্রবধূ রেশমা বেগম শাশুড়িকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। মারধরের সময় তার হাতে গুরুতর আঘাত লাগে এবং কেটে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার সময় উপস্থিত না থাকলেও পরে হাসপাতালে এসে স্ত্রী ও মায়ের অবস্থা দেখেন রেশমা বেগমের স্বামী। তিনি বলেন, “আমি ঘটনার সময় সেখানে ছিলাম না। পরে এসে দেখি তারা হাসপাতালে ভর্তি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সুলতানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ছেলে মো. মিনহাজ বলেন, “আমি দোকানে ছিলাম। শুনেছি একটু মারামারি হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে আমি বেশি কিছু জানি না।”
দুর্গাপুর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “দুই নারী আহত হয়েছেন বলে শুনেছি। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অভিযোগ পেয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আমার এক অফিসারকে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এআর

