খুলনায় তারাবি নামাজ পড়তে গিয়ে নিখোঁজ ব্যবসায়ী কাজী নিজাম উদ্দিন সুজনের সন্ধান পায়নি পুলিশ। ১১ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর নিখোঁজ ছেলের সন্ধান চেয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন মা রোকসানা সোবহান।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ১১টায় পরিবারের পক্ষ থেকে খুলনা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারক লিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপি গ্রহণকালে জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামসেদ খোন্দকার সুজনকে উদ্ধারে পরিবারকে আশ্বস্ত করেন।
বিজ্ঞাপন
স্মারক লিপিতে মা রোকসানা সোবহান উল্লেখ করেন, গত ২১ ফেব্রুয়ারি আমার একমাত্র ছেলে ব্যবসায়ী কাজী নিজাম উদ্দিন সুজন (৩৫) তারাবির নামাজ পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তার কোন খোঁজ না পেয়ে সুজনের বাবা কাজী সোবহান স্থানীয় থানায় জিডি করেন। এছাড়া প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করে উদ্ধারের জন্য আমরা সহযোগিতা চাই। কিন্তু গত ১১ দিনেও আমার ছেলেকে উদ্ধার করতে পারেনি। ফলে পরিবারের সকলেই উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। আমিসহ পরিবারের অন্যান্যর অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন। ৫ বছরের একমাত্র সন্তান নিয়ে সুজনের স্ত্রীও বাগরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, কিন্তু দুর্ভাগ্য যে এখনও সুজনকে উদ্ধার বা তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। আমার ছেলে সুজন কোনো রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত নয়। কোনোদিন করেওনি। বাবার সব ব্যবসা-বাণিজ্য দেখাশোনা করত সে। আমার ছেলের বিরুদ্ধে কোনো মামলাও নেই। কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতাও নেই। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ি ছাড়া আর কোথাও সে যেত না। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে খুলনার সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে আমার ছেলে রাষ্ট্রীয় পুরস্কারও পেয়েছে। এমন ছেলে কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যাওয়াটা রহস্যজনক। আজ আমি আমার ছেলের কোনো সন্ধান পাচ্ছি না। আমি এবং পরিবার আমার একমাত্র ছেলেকে উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
স্মারক লিপি প্রদানের সময় উপস্থিতি ছিলেন, নিজাম উদ্দিন সুজনের স্ত্রী নাবিলা রহমান ও পাঁচ বছরের ছেলে কাজী ইয়ান, অ্যাডভোকেট সুলতানা রহমান শিল্পী, জাহিদুর রহমান ও খায়রুল হাসানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
বিজ্ঞাপন
স্মারকলিপি প্রদান শেষে সুজনের স্ত্রী নাবিলা রহমান বলেন, জেলা প্রশাসক আমাদের আবেদন গ্রহণ করেছেন। তিনি আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কমিটির সভায় এ ব্যাপারে আলোচনা করবেন এবং আবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দ্রুত পাঠানের আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রতিনিধি/এসএস

