মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে ঘরে ঢুকে শ্যামল ব্যাপারী নামের এক মালয়েশিয়াপ্রবাসীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় আরও আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩–এর বিচারক শ্যাম সুন্দর এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন মো. শাহাদত ব্যাপারী, মো. ইব্রাহিম ব্যাপারী ও মো. জাহাঙ্গীর ব্যাপারী।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. মনির চৌকিদার, মো. হায়াতুল ইসলাম চৌকিদার, মো. হাবিব ব্যাপারী, মো. আশরাফুল খান, মো. হুমায়ূন দেওয়ান, মো. এমদাদ হালনার ওরফে ইমরান, মো. আইয়ূব খাঁ ও মো. লিটন ব্যাপারী।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. ইব্রাহিম ব্যাপারী এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত লিটন ব্যাপারী, এমদাদ হালদার ওরফে ইমরান ও হাবিব ব্যাপারী পলাতক থাকায় রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. বিল্লাল হোসেন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। দ্রুত এই রায় কার্যকর হবে।
বিজ্ঞাপন
রায় শুনতে নিহত শ্যামল ব্যাপারীর পরিবারের সদস্যরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। নিহত ব্যক্তির বোন মমতাজ আলো রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়ে বলেন, রায় দ্রুত কার্যকর হলে তাঁর ভাইয়ের আত্মা শান্তি পাবে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৪ জুন দিবাগত রাত একটার দিকে পূর্ববিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে আসামিরা শ্যামল ব্যাপারীর ঘরের দরজা খুলতে ডাক দেন। দরজা খোলার পর তাঁর হাত, দুই পা ও মাথায় গুলি করা হয়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে ও ককটেল বিস্ফোরণ করে পালিয়ে যান।
নিহত ব্যক্তির ভাই ইব্রাহিম ব্যাপারী ওই ঘটনায় মুন্সিগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মুন্সিগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক লিপন সরকার ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আসামিদের মধ্যে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার বিচার মুন্সিগঞ্জ জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আলাদাভাবে চলছে।
২০২৫ সালের ১৪ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য আজ দিন ধার্য রাখেন আদালত। মামলাটির বিচারকালে ৩৩ সাক্ষীর মধ্যে ২৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
প্রতিনিধি/এজে

