মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

যশোর আইটি পার্কে চালডাল কর্মীদের বেতন নিয়ে বিক্ষোভ

জেলা প্রতিনিধি, যশোর
প্রকাশিত: ০২ মার্চ ২০২৬, ১০:২৭ পিএম

শেয়ার করুন:

যশোর আইটি পার্কে চালডাল কর্মীদের বেতন নিয়ে বিক্ষোভ

বকেয়া বেতনের দাবিতে যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে অবস্থিত অনলাইন গ্রোসারি শপ ‘চালডাল ডটকম’-এর কর্মীরা বিক্ষোভ করেছেন। 

সোমবার (২ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে পার্কের ভেতরে ও কার্যালয়ের অভ্যন্তরে তারা এই বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় বাইরে থাকা কর্মীরা ভেতরে প্রবেশ করতে গেলে পার্ক কর্তৃপক্ষ প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয়। এতে ক্ষুব্ধ কর্মীরা প্রধান ফটক ভাঙচুর করেন, যার ফলে দুই কর্মী আহত হন। পরবর্তীতে দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।


বিজ্ঞাপন


আন্দোলনকারীরা জানান, ২০১৯ সালে যশোর আইটি পার্কের ১২ ও ১৪ তলায় বিশাল কল সেন্টার চালুর মাধ্যমে চালডাল ডটকম তাদের কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ৮ শতাধিক কর্মী কাজ করছেন। নিয়মিত অফিস করলেও গত তিন মাস ধরে তারা কোনো বেতন পাচ্ছেন না। কর্মীদের একটি বড় অংশ যশোর শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, যারা পড়াশোনার পাশাপাশি এখানে পার্ট-টাইম চাকরি করেন। দীর্ঘ সময় বেতন না পাওয়ায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন সময়ে বেতন চাইতে গেলে কর্মীদের হেনস্তা করা হয়। সোমবার বেতন দাবি করলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা কর্মীদের অফিসের মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং অনেককে চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এর প্রতিবাদে কর্মীরা তাৎক্ষণিক বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ও পার্কের ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এসে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। আন্দোলনরত কর্মীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, বকেয়া বেতন পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

প্রমি নামে এক কর্মী বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন বেতন না পেয়েও ধৈর্য ধরেছি, কোনো বিক্ষোভ করিনি। কিন্তু এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছি। এখানকার অধিকাংশ কর্মী শিক্ষার্থী, যাদের জীবন চলে এই বেতনের টাকায়। বেতন চাইলে আমাদের চাকরি ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়, আবার চলে যেতে চাইলেও বকেয়া টাকা দেওয়া হয় না। কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আমরা প্রতিনিয়ত হেনস্তার শিকার হচ্ছি।’

আজমীর নামে অন্য এক কর্মী জানান, ‘এখানে ৮ শতাধিক কর্মীর ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন বকেয়া আছে। বেতন চাওয়ায় কয়েকজনকে মারধরও করা হয়েছে। রোজার ঈদের আগে বেতন পরিশোধের কথা বলায় অনেককে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার কারণেই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখান থেকে সরব না।’


বিজ্ঞাপন


পার্কের ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজালাল বলেন, ‘বেতন বন্ধ থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বিষয়টি পার্ক কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা আশ্বস্ত করেছেন যে চালডাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে।’

চালডাল ডটকম যশোরের সহকারী পরিচালক অভিজিৎ সরকার বলেন, ‘আমি শুরু থেকেই এখানে আছি, আগে কখনও এমন হয়নি। ব্যবসার অবস্থা খারাপ হওয়ার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। এমনকি আমার নিজের বেতনও বকেয়া রয়েছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছেন।’

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানান, বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

প্রতিনিধি/একেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর