সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

বিনা দোষে জেল খাটলেন রেহেনা, পুলিশের গাফিলতিতে আদালত ক্ষুব্ধ

অলিউল্লাহ্ ইমরান, বরগুনা
প্রকাশিত: ০২ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম

শেয়ার করুন:

বিনা দোষে জেল খাটলেন রেহেনা, পুলিশের গাফিলতিতে আদালত ক্ষুব্ধ
মোসা. রেহেনা বেগম।

শুধুমাত্র নামের আংশিক মিল থাকায় একটি এনজিওর করা ঋণখেলাপির মামলায় জেল খাটতে হলো সম্পূর্ণ নিরপরাধ এক গৃহবধূকে। বরগুনার উপকূলীয় জনপদ বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নে পুলিশের চরম গাফিলতিতে ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। 

জানা যায়, এনজিও ‘আরডিএফ’-এর দায়ের করা একটি মামলায় মূল অভিযুক্ত আসামি ছিলেন হোসনাবাদ ইউনিয়নের ধনমানিক চত্রা গ্রামের মোহাম্মদ খলিলুর রহমানের স্ত্রী মোসা. রেহেনা বেগম। কিন্তু গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বেতাগী থানা পুলিশ প্রকৃত আসামিকে শনাক্ত না করেই শুধুমাত্র নামের মিল থাকায় একই গ্রামের খলিল খানের স্ত্রী রেহেনা বেগমকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব হয়ে পড়ে ভুক্তভোগী গৃহবধূর পরিবার।


বিজ্ঞাপন


নিরপরাধ রেহেনা বেগমের পরিবার বিষয়টি নিয়ে গত ১ মার্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়। আদালতে গৃহবধূর জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাক্ষ্য-প্রমাণ দাখিল করা হলে বিচারকের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, গ্রেফতারকৃত এই নারী মামলার প্রকৃত আসামি নন। দীর্ঘ আইনি শুনানি শেষে আদালত খলিল খানের স্ত্রী রেহেনা বেগমকে মামলা থেকে তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দিয়ে জামিন মঞ্জুর করেন। তদন্তে নজিরবিহীন গাফিলতি এবং ভুল ব্যক্তিকে গ্রেফতারের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই ঘটনায় আদালত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কেন এই মারাত্মক ভুল হলো এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কেন কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে আদালত পুলিশকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ প্রদান করেছেন।

বরগুনা জজ কোর্টের আইনজীবী নারগীস পারভীন (সুরমা) সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আদালত ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে বরগুনার পুলিশ সুপারকে পুরো বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী রেহেনার ছোট ছেলে মো. রিপন খান কান্নায় ভেঙে পড়ে অভিযোগ করেন, ‘আমরা বারবার পুলিশকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে আমার মা কোনো অপরাধ করেননি, তিনি ঋণী নন। কিন্তু পুলিশ আমাদের কোনো কথাই শোনেনি। কোনো দোষ না থাকা সত্ত্বেও পবিত্র রমজান মাসের শুরুতে আমার মাকে কেন দুই দিন হাজতবাস করতে হলো, এর বিচার আমরা কার কাছে চাইব?’

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ও উপজেলা মহিলা দলের আহ্বায়ক মোসা. পিয়ারা বেগম বলেন, এটি পুলিশের চরম দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ। একজন নিরপরাধ মানুষকে শুধুমাত্র নামের মিল থাকার অজুহাতে জেলে পাঠানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। পুলিশ যদি গ্রেফতারের আগে অন্তত একবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করত, তবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো যেত। আমরা চাই এই ঘটনার সাথে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। 

এনজিও আরডিএফ-এর বেতাগী শাখা ব্যবস্থাপক মো. ফারুক হোসেন জানান, মামলাটি প্রকৃত ঋণগ্রহীতার বিরুদ্ধেই করা হয়েছিল, কিন্তু পুলিশ ভুল মানুষকে গ্রেফতার করেছে। বিষয়টি জানার পর তারা আদালতকে সত্যতা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করেছেন। বেতাগী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জুয়েল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, তথ্য বিভ্রাটের কারণে এমন একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল হয়েছে। এই ঘটনার জন্য পুলিশ প্রশাসন মর্মাহত ও দুঃখিত। ভবিষ্যতে যেন কোনো সাধারণ মানুষ এভাবে হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হবে।


বিজ্ঞাপন


প্রতিনিধি/একেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর