চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে জামায়াতকর্মী হাফিজুর রহমান নিহতের ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর নেতাকর্মীরা। এদিকে, ঘটনার মূল অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদী হাসানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে দামুড়হুদার জয়রামপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি জীবননগরের বাঁকা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদ্য অব্যাহতি পাওয়া আহ্বায়ক।
সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে সদর উপজেলা জামায়াতের আয়োজনে শহরের শহীদ হাসান চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে জেলা ও উপজেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
বিজ্ঞাপন
বক্তারা অভিযোগ করেন, জামায়াতকর্মী ও জুয়েলারি ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডকে দুঃখজনক ও নিন্দনীয় উল্লেখ করে তারা বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করা হবে। একটি রাজনৈতিক দল প্রতিহিংসায় মেতে উঠেছে বলেও অভিযোগ তোলেন তারা। বক্তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান, পৌর জামায়াতের আমীর হাসিবুল ইসলাম, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর বেলাল হুসাইন, জেলা ইউনিটের সদস্য আব্দুর রউফ এবং জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাগর আহমেদ প্রমুখ।
এর আগে, শনিবার রাতে জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীরের ভাই ও জামায়াতকর্মী হাফিজুর রহমান নিহত হন। আহত হন উভয় পক্ষের আরও পাঁচজন।
এ ঘটনায় রবিবার জীবননগর থানায় সাতজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল আল নাসের।
বিজ্ঞাপন
প্রতিনিধি/একেবি

