নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ডিঙাপোতা হাওরে তেতুলিয়া থেকে গাগলাজুর বাজার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার ডুবন্ত সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণ প্রকল্পের মেয়াদ দুইবার বাড়ানো হলেও কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশ। ধীরগতি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২৭ কোটি ৭৪ লাখ ৩ হাজার ১০০ টাকা ব্যয়ে সড়কটি আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে সংস্কার ও প্রশস্তকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কাজটি পায় কুমিল্লার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এমএস হাসান বিল্ডার্স’। ২০২৪ সালের ৩ জুলাই কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে অগ্রগতি হয় মাত্র ১৮ শতাংশ। পরে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। সর্বশেষ আগামী ৯ জুন পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি প্রায় ৩০ শতাংশ।
বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন অংশে কাজ বন্ধ রয়েছে। কোথাও একপাশ কেটে রাখা হয়েছে, কোথাও কাদাবালি ফেলে প্রশস্তকরণের কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। খানাখন্দে ভরা সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ইজিবাইক ও রিকশা। ধুলোবালিতে দুর্ভোগ বাড়ছে, বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও।
রোববার (১ মার্চ) দুপুরে উপজেলার নওগাঁ ও নয়াপাড়ার মাঝামাঝি স্থানে সড়কের ওপরে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। এতে কয়েক গ্রামের শতাধিক মানুষ অংশ নেয়। তারা নিম্নমানের সামগ্রী অপসারণের পাশাপাশি দ্রুত সড়কের কাজ শেষ করার দাবি জানান।
বক্তারা অভিযোগ করেন, নিম্নমানের বালু ও ইট ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ইটের গাঁথুনিতে সঠিকভাবে পানি দেওয়া হচ্ছে না। এতে সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক বলেন, ধীরগতির কারণে শুকনো মৌসুমেও ধান পরিবহনে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এখন আবার রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় মাটি খুঁড়ে রাখা হয়েছে। এতে বোরো ফসল ঘরে তুলতে কৃষকদের সীমাহীন দুর্ভোগ হবে। দ্রুত কাজ শেষ করে চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ চাই। অন্যথায় কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
গাগলাজুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম অভিযোগ করেন, প্রায় দুই বছরে সামান্য কাজ হয়েছে। কর্তৃপক্ষের তদারকি নেই বললেই চলে।
মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুত মানসম্মতভাবে কাজ সম্পন্নের দাবি জানান। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। বর্ষা মৌসুমে সড়কের বিভিন্ন অংশে ভাঙন ও কাদা সৃষ্টি হয়ে চলাচলে চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতেও সমস্যা হচ্ছে বলে তারা জানান।

এ বিষয়ে ঠিকাদার মফিদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়নি। সরবরাহকারী ভালো ইটের সঙ্গে কিছু নিম্নমানের ইট সরবরাহ করেছিল, সেগুলো বাতিল করে পরিবর্তন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনের সময় শ্রমিকেরা ভোট দেওয়ার কথা বলে কাজ ফেলে চলে গিয়েছিল। খুব দ্রুত কাজ পুনরায় শুরু করা হবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) নেত্রকোনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কাজের গতি খুবই কম। এখন পর্যন্ত ৩০ শতাংশের মতো। কাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু না হলে কার্যাদেশ বাতিলের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এসএস

