রোববার, ১ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

২ মাস পর সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ শুরু, উপকূলে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য

জেলা প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ০১ মার্চ ২০২৬, ০২:০৩ পিএম

শেয়ার করুন:

২ মাস পর সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ শুরু, উপকূলে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য
২ মাস পর সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ শুরু

প্রজনন মৌসুমে টানা দুই মাস বন্ধ থাকার পর আবারও সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ শুরু হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর উপকূলজুড়ে জেলে পরিবারগুলোতে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য।

বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে রোববার (১ মার্চ) সকাল থেকেই জেলেরা সুন্দরবনের উদ্দেশে রওনা দেন।


বিজ্ঞাপন


সুন্দরবন-সংলগ্ন সাতক্ষীরার হরিনগর জেলেপাড়ায় সকালে দেখা যায়, চুনকুড়ি নদীর তীর থেকে জেলেরা কাঁকড়া ধরার সরঞ্জাম নৌকায় তুলছেন। কেউ দোন-দড়ি গুছাচ্ছেন, কেউ নৌকার ছোটখাটো ত্রুটি সারছেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বনে ফেরার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

6e306589-2e89-4cd1-b64a-e3781aadfdff

জেলে অরুণ মন্ডল জানান, সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরেই তার পাঁচ সদস্যের সংসার চলে। নিষেধাজ্ঞার দুই মাস আয় বন্ধ থাকায় মহাজনের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিতে হয়েছে। নতুন মৌসুম শুরু হওয়ায় সেই ঋণ শোধের আশা করছেন তিনি।

একই এলাকার জেলে নিত্যরঞ্জন মন্ডল বলেন, সরকারি ভাতার ব্যবস্থা না থাকায় নিষেধাজ্ঞার সময়ে তাদের চরম কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী, কদমতলা, কৈখালী ও কোবাদক ফরেস্ট স্টেশনের আওতায় ২ হাজার ৯০০টি নৌকার প্রবেশ অনুমতি রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৬০০টি নৌকা কাঁকড়া আহরণের জন্য নিবন্ধিত। রোববার বেলা ১১টা পর্যন্ত সাতক্ষীরা রেঞ্জ দিয়ে ৭০৫ জন জেলে সুন্দরবনে প্রবেশ করেছেন।

18bfc354-8d1d-4cc8-8032-e7b525411599

বন বিভাগের তথ্যমতে, সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন পুষ্পকাটি, মান্দারবাড়িয়া, নটাবেঁকি ও হলদেবুনিয়া এলাকা অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষিত। এছাড়া দোবেকী ও কাঁচিকাটার ৫২ শতাংশ অংশ সংরক্ষিত। ছোট কেয়াখালী, বড় কেয়াখালী, খোলশিবুনিয়া ও সাপখালী খালসহ ২৫ ফুটের কম প্রশস্ত খালে সারা বছর কাঁকড়া ধরা নিষিদ্ধ। সংরক্ষিত অঞ্চল ছাড়া বৈধ পাস-পারমিটধারী প্রায় ১৫ হাজার জেলে কাঁকড়া আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

সাতক্ষীরা রেঞ্জ-এর সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. মসিউর রহমান বলেন, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি, এই দুই মাস কাঁকড়ার প্রজনন ও বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আহরণ বন্ধ রাখা হয়েছিল। ১ মার্চ থেকে অভয়ারণ্য ঘোষিত এলাকা ছাড়া অন্যান্য নদী ও খালে কাঁকড়া ধরা যাবে। অনুমতিপত্রের অপব্যবহার রোধে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি ইঞ্জিনচালিত নৌকা বা ট্রলারে কাঁকড়া পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে কাঁকড়া রপ্তানি নীতিমালা প্রণয়নের পর থেকে প্রতিবছরই দুই মাস কাঁকড়া আহরণের পাস-পারমিট স্থগিত রাখা হয়। নিষেধাজ্ঞা শেষে নতুন মৌসুম শুরুর মধ্য দিয়ে উপকূলীয় জনপদে আবারও ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য ও স্বস্তি।

প্রতিনিধি/টিবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর