রোববার, ১ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

জীবননগরে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, নিহত ১

জেলা প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশিত: ০১ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৫ এএম

শেয়ার করুন:

জীবননগরে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, নিহত ১
জীবননগরে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজারে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে দু’দফা সংঘর্ষে জামায়াতের এক ইউনিয়ন আমিরের ভাই নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতারের পর সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত হাসাদাহ বাজারের কামিল মাদরাসা গেটের সামনে এ সংঘর্ষ ঘটে।


বিজ্ঞাপন


নিহতের নাম হাফিজুর রহমান (৫৫)। তিনি জীবননগর শহরের ‘ঢাকা জুয়েলার্স’-এর মালিক। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। গুরুতর আহত হয়েছেন বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও নিহতের ছোট ভাই মফিজুর রহমান। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জামায়াতের অন্য আহতরা হলেন— মফিজুর রহমান (৪০), খায়রুল ইসলাম (৫০) ও সোহাগ (৩৫)। তাদের মধ্যে দু’জন জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি।

অন্যদিকে, বিএনপির আহতরা হলেন— বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মাস্টার (৫০), স্বেচ্ছাসেবক দলের সদ্য অব্যাহতি প্রাপ্ত নেতা মেহেদী হাসান (৪০) এবং তার বাবা জসীম উদ্দিন (৬৫)।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্বশত্রুতার জেরে ইফতারের পর উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতি শুরু হয়। প্রায় ৪০–৪৫ মিনিট পর পুণরায় উভয় পক্ষ বাজারে জড়ো হলে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ বাধে। এসময় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলায় হাফিজুর রহমান ও মফিজুর রহমান গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। রাত ১২টার দিকে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে বিএনপির এক নেতার ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।


বিজ্ঞাপন


 

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান হোসেন বলেন, হাসাদাহ বাজারে দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রস্তুতসহ আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের আমির ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন ঘটনাটি নিশ্চিত করে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় জীবননগর শহরে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে জেলা জামায়াত।

প্রতিনিধি/টিবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর