পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজবাড়ী জেলা বিসিক শিল্প নগরীতে সেমাই তৈরির ধুম পড়েছে। উৎসবের আনন্দ ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন কারখানার শ্রমিকেরা। বিসিকের দুটি প্রধান উৎপাদন প্রতিষ্ঠান ‘কাজী ফুড’ ও ‘দিন ফ্লাওয়ার মিল’-এ এখন চলছে সেমাই তৈরির উৎসবমুখর কর্মযজ্ঞ।
সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানায় উন্নত মানের ময়দা দিয়ে সেমাই তৈরি করা হচ্ছে। প্রথমে কাঁচা সেমাই বানিয়ে তা রোদে শুকানো হয়, এরপর প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে তা খাওয়ার উপযোগী করা হয়। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে শ্রমিকেরা হাতে গ্লাভস ও বিশেষ পোশাক পরে প্যাকেটজাতকরণের কাজ করছেন।
বিজ্ঞাপন

কারখানার শ্রমিকেরা জানান, মান নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে যাতে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত সেমাই পেতে পারে।
স্বাদে ও গন্ধে অতুলনীয় হওয়ায় রাজবাড়ীর এই সেমাইয়ের চাহিদা এখন স্থানীয় বাজারের গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে।
কাজী ফুড-এর অভিজ্ঞ কারিগর সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ঈদের আগে আমাদের দম ফেলার সময় থাকে না। তবে ভালো লাগছে এই ভেবে যে, আমাদের হাতের তৈরি সেমাই দিয়ে হাজার হাজার মানুষ ঈদ উদযাপন করবে। আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে সবচেয়ে বেশি নজর দিচ্ছি।
বিজ্ঞাপন

দিন ফ্লাওয়ার মিলে কর্মরত নারী শ্রমিক অনিতা হালদার বলেন, এখানে কাজ করে আমরা যেমন সংসার চালাচ্ছি, তেমনি ঈদের আনন্দটাও ভাগ করে নিচ্ছি। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ চলছে। উন্নতমানের ময়দা আর স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা সবসময় সতর্ক থাকি।
অন্য এক শ্রমিক শেফালী খাতুন বলেন, এখানকার সেমাইয়ের মান খুব ভালো হওয়ায় শুধু রাজবাড়ী নয়, বাইরের জেলা থেকেও পাইকাররা এসে নিয়ে যাচ্ছেন। প্যাকেজিংয়ের সময় আমরা মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করি যাতে কোনোভাবেই খাবারের মান নষ্ট না হয়।
আরেক শ্রমিক ছাত্তার মন্ডল বলেন, আমাদের রাজবাড়ী জেলার চিকন সেমাই এর মান ও স্বাদ ভালো হওয়ায় রাজবাড়ী জেলা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাওয়া যায়।

রাজবাড়ী বিসিক শিল্প নগরী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, বিসিক শিল্প নগরীর কারখানাগুলোতে শ্রমিকরা বর্তমানে অতিরিক্ত সময় কাজ করছেন। আমরা নিয়মিত তদারকি করছি যাতে ভোক্তারা স্বাস্থ্যসম্মত ও সুস্বাদু সেমাই পায়। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে এই ক্ষুদ্র শিল্পের আরও প্রসার ঘটা সম্ভব।]
আরও পড়ুন
বিসিক জেলা কার্যালয়, রাজবাড়ীর সহকারী মহাব্যবস্থাপক চয়ন বিশ্বাস বলেন, আমরা বিসিকের পক্ষ থেকে কারখানাগুলোকে গুণগত মান বজায় রেখে এবং সঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি ও খাদ্যপণ্য প্রস্তুত বিধিমালা মেনে সেমাই উৎপাদনের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি। জেলায় প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ কেজি সেমাই উৎপাদিত হচ্ছে এবং এবারের ঈদে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৫০ টন। এই সেমাইয়ের গুণগত মান ভালো হওয়ায় তা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছর রাজবাড়ীতে প্রায় ৫০ টন সেমাই উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে এই সেমাই দেশের অন্যান্য প্রান্তে সরবরাহ করা হচ্ছে, যা এলাকার অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
প্রতিনিধি/টিবি

