বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

কক্সবাজারে ফিলিং স্টেশনে দগ্ধ ৭ জন চমেক হাসপাতালে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম

শেয়ার করুন:

Chittagong Medical College
চট্টগ্রাম মেডিকেলে কক্সবাজার ফিলিং স্টেশনের দগ্ধ ৭ জনকে ভর্তি করা হয়েছে

পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় অবস্থিত কক্সবাজার ফিলিং স্টেশনে দু’দফা ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ ১৭ জনের মধ্যে আশঙ্কাজনক ৭ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত ভোর রাত পৌনে ৩টার দিকে তাদের চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক।


বিজ্ঞাপন


তিনি জানান, কক্সবাজার থেকে দগ্ধ অবস্থায় ৭ জনকে আনার পর তাদের হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

এই দগ্ধরা হলেন-আবু তাহের (৪০), সিরাজ (২৫), আব্দুর রহিম (৩৯), সাকিব (২২), মোতাহের (৪৫), আবুল কাওসার (২৭) ও মোতাহের (৪৫)। তাদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক। 

চমেক হাসপাতাল বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মো. রাশেদ উল করিম জানান, কক্সবাজার থেকে নিয়ে আসা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৭ জন পুরুষ রোগীর সবারই শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের শরীর প্রায় ৯০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। এর মধ্যে তিন জনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

তিনি আরও বলেন, ৫০ শতাংশ ও ৯০ শতাংশ দগ্ধ দুই রোগীকে ইতোমধ্যে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্য রোগীদের অবস্থাও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে তাদেরও আইসিইউ সাপোর্ট দেওয়া হবে।


বিজ্ঞাপন


জানা গেছে, বুধবার দিনগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে কলাতলীর এন আলম এলপিজি ফিলিং স্টেশনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অন্তত ১৭ জন দগ্ধ হন। আহত হন আরও তিন জন। আগুনে ফিলিং স্টেশনের পাশের একটি গ্যারেজে থাকা প্রায় ২০ থেকে ২৫টি পর্যটকবাহী জিপ (চাঁদের গাড়ি) এবং ১০টি ঘর-বাড়ি পুড়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজার ও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

কক্সবাজার ফায়ার স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মো. মোরশেদ হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ফিলিং স্টেশনের ১৪ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার একটি গ্যাসের ট্যাংকের লিকেজ থেকে জমে থাকা দাহ্য গ্যাসে আগুন লেগে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রথম দফার লিকেজ নিয়ন্ত্রণের পর হঠাৎ দ্বিতীয় বিস্ফোরণ হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর কলাতলী বাস টার্মিনাল ও শহরের বাইপাস সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিকল্প সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে। মাইকিং করে আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ার) রাত ৮টার দিকে গ্যাস লিকেজ থেকে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে রাত ৯টার দিকে দ্বিতীয় দফায় শক্তিশালী বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রাথমিকভাবে লিকেজ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই জমে থাকা দাহ্য গ্যাসে আগুন ধরে যায়।

রাত ৯টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে দ্বিতীয় দফায় বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের ভবনের কাচ ভেঙে যায়। আতঙ্কে বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।

আগুন নেভাতে গিয়ে দমকল কর্মীসহ অন্তত ১৭ জন দগ্ধ হন। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বিস্ফোরণের শব্দ কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা গেছে। বিস্ফোরণের আগুনে গ্যাস পাম্বটি প্রায় সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকে এটিকে ভূমিকম্পের মতো অনুভব করেছেন বলে জানান।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। হতাহতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পর্যটননগরী কক্সবাজারজুড়ে শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রতিবেদক/এএম

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর