চট্টগ্রাম মহানগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া এসএ পরিবহনের একটি গাড়ি তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট জব্দ করেছে কর্ণফুলি থানা পুলিশ। খেলনা ও ক্রোকারিজ লেখা কার্টুনের আড়ালে কৌশলে এসব সিগারেট পরিবহন করা হচ্ছিল বলে পুলিশের ধারণা।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টা থেকে ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মইজ্জ্যারটেক এলাকায় ঢাকা মেট্রো-ট-১৪-২৯২০ নম্বরের কাভার্ড ভ্যানটি আটক করা হলেও পুলিশ ঘটনায় মামলা রুজু করে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দিনগত রাতে।
বিজ্ঞাপন
এরপর বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এই সময়ে পুলিশ বিষয়টি গোপন রেখে ২০ লাখ টাকায় ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ উঠে।
কাভার্ড ভ্যানের চালক নোয়াখালীর শহিদ উল্ল্যাহ এ বিষয়ে জানান, কর্ণফুলি মইজ্জ্যারটেক এলাকা থেকে গাড়ি আটক করে শিকলবাহা ফাঁড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে অবৈধ বিদেশি সিগারেটের সঙ্গে গাড়ির বৈধ সব কাগজপত্র জব্দ করা হয়। এরপর মালামালসহ গাড়ি ছাড়াতে দেনদরবার শুরু করে পুলিশ। পুলিশের চাওয়া ছিল ২০ লাখ টাকা। কিন্তু সেটা দিতে রাজী হয়নি। এ নিয়ে কালক্ষেপণ করেছে পুলিশ। অবশেষে দাবিকৃত টাকা না পেয়ে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসএ পরিবহনের কাজীর দেউড়ি শাখার জেনারেল ম্যানেজার মো. মোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি কেবল গ্রাহকের বুকিং করা পার্সেল পরিবহন করে এবং কোনো মালামাল প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নয়। প্রতিটি চালানের প্রেরক ও প্রাপকের তথ্য সংরক্ষিত থাকে। এ কারণে পুলিশ মালামাল রেখে দিয়ে গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে। তবে পুলিশের দেনদরবার নিয়ে কোনো কথা বলতে রাজী হননি তিনি।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি নাইট ডিউটিতে থাকা এসআই ইমরান ফয়সাল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত আড়াইটার দিকে কাভার্ড ভ্যানটি থামান। গাড়িতে থাকা বুকিং চালান কপিতে খেলনা ও ক্রোকারিজ পণ্য পরিবহনের তথ্য ছিল।
বিজ্ঞাপন
কিন্তু কার্টুন খুলে দেখা যায়, মোট ৬০০ বড় প্যাকেটে সিগারেট ছিল, যেখানে প্রতিটি বড় প্যাকেটে ১০টি করে ছোট প্যাকেট হিসেবে ৬ হাজার ছোট প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশ প্রতিটি ছোট প্যাকেটের মূল্য ২০০ টাকা ধরে মোট ১২ লাখ টাকা নির্ধারণ করে মামলা রুজু করেছে। তবে বাস্তব বাজারদর আরও বেশি হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অরিস র্ব্যান্ডের এক প্যাকেট (২০ স্টিক) সাধারণত ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়। অপরদিকে প্যাট্রন র্ব্যান্ডের কিছু প্রিমিয়াম ভ্যারিয়েন্ট বিশেষ দোকান বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ২৪০০ থেকে ২৯০০ টাকায় বিক্রির তথ্যও পাওয়া যায়। সে হিসেবে চালানের প্রকৃত বাজারমূল্য পুলিশের হিসাবের চেয়ে বেশি হতে পারে বলে প্রশ্ন উঠেছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, কাভার্ড ভ্যানটি সরল বিশ্বাসে মালামাল পরিবহন করছিল। গাড়িতে অন্যান্য বৈধ ও পচনশীল পণ্য থাকায় জনদুর্ভোগ এড়াতে কাভার্ড ভ্যানটি ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বগুড়া ও কক্সবাজার এলাকার তিনজনকেও পলাতক আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিদেশ থেকে সিগারেট আমদানি করে চোরাচালানের মাধ্যমে সরবরাহের অভিযোগ আনা হয়েছে।
জানতে চাইলে এসআই ইমরান ফয়সাল বলেন, জব্দ করা সিগারেটের পরিমাণ অনুযায়ীই মামলা দেওয়া হয়েছে এবং গণনার সময় ভিডিও ধারণ করা হয়েছে, যাতে পরবর্তী সময়ে কোনো ধরনের সন্দেহের অবকাশ না থাকে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করতে সময় লেগেছে। এ নিয়ে কোনোরকম দেনদরবার হয়নি।
প্রতিনিধি/এজে

