রংপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেছেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দালাল সিন্ডিকেট নির্মূল করা হবে। এজন্য স্থানীয় কমিটি গঠনসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে একটি সুপরিকল্পিত কর্মকৌশল বাস্তবায়ন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, ‘‘হাসপাতালের সর্বক্ষেত্রে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। জনবল সংকটের সুযোগ নিয়ে দালালরা ‘ভলান্টারি সার্ভিস’-এর নামে ভেতরে প্রবেশ করছে এবং রোগীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো অর্থ আদায় করছে।’’
তিনি জানান, বিষয়টি তিনি সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘সিন্ডিকেটের অনেক সদস্য স্থানীয় হওয়ায় তারা প্রভাব খাটায় ও হুমকি দেয়। ফলে নার্স ও চিকিৎসকেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে অনেক সময় তাদের সুযোগ দিতে বাধ্য হন। এই পরিস্থিতি দূর করতে স্থানীয় বাসিন্দা, প্রশাসন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হবে।’
এমপি বেলাল উল্লেখ করেন যে, ১ হাজার শয্যার এই হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে আড়াই হাজার রোগী ভর্তি থাকে। কিন্তু জনবল এখনো ৬০০ শয্যার পুরনো কাঠামো অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জনবল বৃদ্ধি না পাওয়ায় সেবার মান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শয্যা সংখ্যা ও জনবল বাড়ানো ছাড়া পূর্ণাঙ্গ সেবা নিশ্চিত করা অসম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিজ্ঞাপন
হাসপাতালের অপরিচ্ছন্নতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘যত্রতত্র আবর্জনা পড়ে থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়। মানুষ চিকিৎসা নিতে এসে উল্টো স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’
তিনি হাসপাতাল পরিচালককে অনুরোধ করেন যেন জনবল সংকট সত্ত্বেও অন্তত মৌলিক পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা হয়।
এমপি অভিযোগ করেন যে, অতীতে এই হাসপাতালের খোঁজখবর নেওয়া বা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হয়নি। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে বিভাগীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করে অবিলম্বে শয্যা সংখ্যা, জনবল ও বাজেট বৃদ্ধি করতে হবে। তবেই এই অঞ্চলের মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পাবে।’
এর আগে তিনি হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমানের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন। পরে তিনি সিসিইউসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন, নার্স ও সাধারণ রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জরুরি বিভাগের কাউন্টারে গিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।
প্রতিনিধি/একেবি

