বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ঠাকুরগাঁওয়ে আড়াই কোটি টাকার আধুনিক বাজার পড়ে আছে অচল অবস্থায়

মো. জাহিদ হাসান মিলু, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:১৮ পিএম

শেয়ার করুন:

ঠাকুরগাঁওয়ে আড়াই কোটি টাকার আধুনিক বাজার পড়ে আছে অচল অবস্থায়

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ বাজারে আড়াই কোটি টাকার আধুনিক বাজার ভবন নির্মাণের দুই বছর পার হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হয়নি ব্যবসা কার্যক্রম। ফলে কোটি টাকার সরকারি অবকাঠামো পড়ে আছে প্রায় অচল অবস্থায়; বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।

গ্রামীণ বাজারের অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে ২০২১ সালে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ২০২৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর নির্মাণকাজ শেষ হয়। প্রকল্পে ব্যয় হয় ২ কোটি ৫৫ লাখ ১২ হাজার ১০২ টাকা। লক্ষ্য ছিল কৃষিপণ্য বিপণনে সুবিধা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আনা।


বিজ্ঞাপন


সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরোনো কাঁচা-পাকা দোকানের মাঝখানে দুই তলা বিশিষ্ট আধুনিক ভবনটি দাঁড়িয়ে থাকলেও অধিকাংশ দোকানঘর ফাঁকা। নিচতলার ৩৪টি এবং ওপরতলার ২৪টি ঘরের বেশিরভাগই এখনো চালু হয়নি। নিচতলায় সবজি, মাছ ও মাংসের দোকান বসার কথা থাকলেও নিয়মিত বেচাকেনা নেই। দোতলায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বরাদ্দকৃত ঘরগুলোও অনেকটাই অচল।

বাজারে তিন শতাধিক ছোট-বড় দোকান রয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী এখনও খোলা আকাশের নিচে বা অস্থায়ী ঘরে ব্যবসা করছেন। সাপ্তাহিক হাটের দিন রোববার কিছুটা প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেলেও স্থায়ী দোকানগুলোতে জমে না বেচাকেনা। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ভবনের টাইলস ও দেয়ালে ধুলা জমেছে, কোথাও কোথাও ক্ষয়ের চিহ্নও স্পষ্ট।

স্থানীয় ব্যবসায়ী শহিদুল বলেন, নেকমরদ বাজার বহু বছরের পুরোনো। এখানে ধান-গম ও গবাদিপশুর বড় হাট বসে। কিন্তু নতুন ভবন চালু না হওয়ায় আমরা প্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছি না।

দোতলায় এক দোকান বরাদ্দ পাওয়া ভবানন্দপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, স্ত্রীর নামে ঘর নিতে এক লাখ টাকা জামানত দিয়েছেন। মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার টাকা। তবে এখনো ব্যবসা শুরু করতে পারিনি, বলেন তিনি।


বিজ্ঞাপন


3104a9f4-9efe-44f3-a557-f2b44840b942

নেকমরদ মেলা কমিটির সম্পাদক মো. নবী বলেন, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটি ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সরকারি অর্থের অপচয় হবে। প্রয়োজনে লিজ বাতিল করে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের কাছে পুনরায় বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

উপজেলা প্রকৌশলী আনিসুর রহমান ঢাকা মেইলকে জানান, এলজিইডি নির্মাণকাজ শেষ করে ভবনটি উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছে। বাজার চালুর বিষয়টি এখন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

 

নেকমরদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যারা এখনো ব্যবসা শুরু করেননি, তাদের দ্রুত চালুর জন্য বলা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/টিবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর