বরিশাল আদালতের বিচারককে অপমান-কাজে বাঁধা, এজলাস ভাঙচুরসহ বিভিন্ন অভিযোগে দুইজন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি), তিনজন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটরসহ (এপিপি) ১২ আইনজীবী নেতার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ০৮ জনকে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বরিশাল নগর পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
বিজ্ঞাপন
মামলার বাদী হয়েছেন- বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার। মামলা দায়েরের পরপর আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে যৌথবাহিনী।
মামলার নামধারী ১২ আসামি হলেন- বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন, সাধারণ সম্পাদক মীর্জা রিয়াজুল ইসলাম, জেলা পিপি আবুল কালাম আজাদ, মহানগর পিপি নাজিম উদ্দিন পান্না, এপিপি হাফিজ উদ্দিন বাবলু, এপিপি তারেক আল ইমরান, এপিপি আবুল কালাম আজাদ ইমন, বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নেতা মহসিন মন্টু, মিজানুর রহমান, অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক, অ্যাডভোকেট সাঈদ এবং অ্যাডভোকেট বশির উদ্দিন সবুজ।
থানা সূত্রে জানা গেছে, মামলায় আদালত এলাকায় মহড়া ও ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাছাড়া বিচার কাজে অংগ্রহণকারী বিচারককে অপমান ও কাজে বাঁধা দান, সরকারি কর্মচারীর কাজে বাঁধা দেওয়া, আইনগত সাহায্য গ্রহণ না করার হুমকি প্রদান ও আক্রমণ করারও অভিযোগ আনা হয়েছে।
বরিশাল নগর পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, আদালতে মঙ্গলবারের ঘটনায় বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই মামলা হয়েছে। আইন অনুযায়ী মামলার পরবর্তী কার্যক্রম চলবে।
এর আগে, গত সোমবার আওয়ামী লীগের বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক এস এম শরীয়তউল্লাহ তার জামিন মঞ্জুর করেন।
বিজ্ঞাপন
এই ঘটনায় গত মঙ্গলবার বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা এজলাসে ঢুকে চিৎকার-চেঁচামেচি ও আসবাবপত্র ধাক্কাধাক্কি করেন। সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, মঙ্গলবার দুপুর ২টা ৩৯ মিনিটের দিকে ঘটনার সূত্রপাত।
১ মিনিট ৪১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরীয়তউল্লাহ একটি মামলার শুনানি করছিলেন। এ সময় হঠাৎ দরজা খুলে একদল আইনজীবী চিৎকার করতে করতে এজলাসে প্রবেশ করেন এবং বেঞ্চগুলো ধাক্কা দিতে থাকেন। একজন আইনজীবী বিচারকের সামনে গিয়ে আঙুল তুলে চিৎকার করেন এবং বিচারকের সামনের বেঞ্চে আঘাত করেন। জানা গেছে, এজলাসে প্রথম প্রবেশ করা ওই আইনজীবী ছিলেন সাদিকুর রহমান লিংকন।
এরপর বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বরিশাল আদালতের আইনজীবী সমিতির ভবনের একটি রুম থেকে লিংকনে গ্রেফতার করে যৌথবাহিনী। তাকে গ্রেফতারের পর অন্যান্য আইনজীবীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করে কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুসকে জামিন দেওয়ার আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজসহ আওয়ামী লীগের আরও তিন নেতাকে জামিন দেওয়া হয়েছিল।
প্রতিনিধি/ এজে

