বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

‘নানা হালিম’ আর ‘রেশমি জিলাপি’র কদর খুলনাজুড়ে

কামাল হোসেন, খুলনা
প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২৩ এএম

শেয়ার করুন:

‘নানা হালিম’ আর ‘রেশমি জিলাপি’র কদর খুলনাজুড়ে

রোজা ঘিরে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে রেশমি জিলাপি। সঙ্গে রয়েছে ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে জনপ্রিয়তা ধরে রাখা বিখ্যাত ‘নানা হালিম’। নগরীর সাউথ সেন্ট্রাল রোডস্থ পাইওনিয়ার মহিলা মহাবিদ্যালয়ের সামনে বিক্রি হয়ে আসছে এই হালিম। খাসির মাংস আর গাওয়া ঘিয়ের সংমিশ্রণে তৈরি এ খাবার কিনতে দুপুর থেকে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে।

দুপুরের পর থেকে শুরু হয় বেচাবিক্রি। সময় বাড়তে বাড়তে ভিড় বাড়ে রেশমি জিলাপি আর নানা হালিমের কেনার জন্য।


বিজ্ঞাপন


637207106_928166839612758_2839708447728894241_n

নানা হালিমের স্বত্বাধিকারী নানা খ্যাত হজরত আলী জানান, সেনাবাহিনীতে চাকরি করতাম। স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। দেশ স্বাধীনের পর চাকরিতে ফিরে না গিয়ে বাড়িতে চলে আসি। একসময় সংসার চালানো কঠিন হয়ে যায়। সিকিউরিটি গার্ডের চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের জন্য প্রথমে ভ্যানে করে হালিম বিক্রি শুরু করি। পরবর্তীতে হালিমের সুনাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে ১৯৯৩ সাল থেকে স্থায়ীভাবে এ ব্যবসা করতে থাকি। বয়স বেড়ে যাওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে শুধুমাত্র রমজান মাসে হালিম বিক্রি করছেন তিনি।

খাবারের মান ঠিক রাখতে এখনও হজরত আলী নিজ হাতেই রান্না করেন। দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়লেও হালিমের ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি। বাড়ানো হয়নি কোনো দাম। নানা আকারের মাটির পাত্রে ১০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা মূল্যে হালিম পাওয়া যায় তার বিক্রয় কেন্দ্রে। সাতজন বাবুর্চিসহ ১১ জন কাজ করেন তার সাথে।

637207106_928166839612758_2839708447728894241_n


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন

মুকুলে ছেয়ে গেছে বাগান, ভালো ফলনের স্বপ্নে বিভোর চাষি

নানাকে সহায়তাকারী মো. হাবিব পেশায় বাবুর্চি। বছরের অন্য সময়ে বিভিন্নস্থানে রান্না বান্নার কাজ করেন। শুধুমাত্র রমজান মাস এলেই হজরত আলীর (নানা) দোকানে কাজ করেন। গত ২৬ বছর ধরে তার সাথে রয়েছেন তিনি।

636735497_3926038054363182_4974462535579033388_n

একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত মোহসীন রেজা জানান, প্রতিবছর নানার এখান থেকে হালিম কিনি। ইফতারে হালিম না হলে তৃপ্তি হয় না। বাসার সবারই এই হালিমই পছন্দ। তবে নানা হালিম কিনতে অনেক সময় সিরিয়াল দিতে হয় আগেভাগে, না আসলে পাওয়া যায় না। হালিমের পাশাপাশি এখানকার রেশমি জিলাপি খুব সুস্বাদু। মাঝে মধ্যে জিলাপি কেনা হয়।

639437616_946277034736842_6822740501598746456_n

সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে হালিম আর জিলাপি কিনতে অপেক্ষা করছেন পাইনিয়র কলেজের শিক্ষক রোকনুজ্জামান। তিনি বলেন, ইফতারিতে একটু মিষ্টি জাতীয় খাবারের জন্য এখানকার রেশমি জিলাপি সঙ্গে হালিম নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি। নানার হাতে জাদু আছে। এখানকার সব ইফতার সামগ্রী মানসম্মত।

প্রতিনিধি/এসএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর