রোববার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

একটি ফুল দিয়েও শ্রদ্ধা জানাল না কেউ, দিনভর রইল ফাঁকা

জেলা প্রতিনিধি, জয়পুরহাট
প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম

শেয়ার করুন:

একটি ফুল দিয়েও শ্রদ্ধা জানাল না কেউ, দিনভর রইল ফাঁকা
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।

২১ ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস। সারা দেশে শহীদ মিনারে নামে মানুষের ঢল, দিবসের প্রথম প্রহরে পুষ্পস্তবকে ঢেকে যায় সব শহীদ মিনারের বেদি। কিন্তু জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছিল ভিন্ন এক দৃশ্য। সেখানে পড়েনি একটিও পুষ্পস্তবক। শ্রদ্ধা জানায়নি কেউ। মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহর থেকে সারাদিন রিক্ত পড়ে ছিল শহীদ মিনারটি।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহীদ মিনার চত্বর ফাঁকা পড়ে আছে। নেই কোনো পুষ্পস্তবক, নেই কোনো ব্যানার বা শ্রদ্ধার বার্তা। সীমানা প্রাচীরের উপরে কাপড় শুকাতে দিয়েছেন স্থানীয়রা। মিনারের পাশে বাঁশে দড়ি বেধেও শুকানো হচ্ছে কাপড়। কাপড় শুকানোর কাজে বাদ পড়েনি শহীদ মিনার ঘিরে রাখা দেওয়ালও। প্রবেশ দ্বারে দেখা গেছে শুকাতে দেওয়া আছে গোবর (ঘুঁটে)। অপরিচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে ভেতরের প্রাঙ্গন, বিবর্ণ হয়েছে রয়েছে দেওয়ালের রং।


বিজ্ঞাপন


স্থানীয় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শহীদ মিনার শুধু ইট-পাথরের স্থাপনা নয়, এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের প্রতীক। সেখানে একটি ফুলও না পড়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এছাড়াও শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর বসে জুয়ার আসর। এমন দিনে সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন না হওয়া হতাশাজনক।

আরও পড়ুন

ভাষার মতো গণতন্ত্র রক্ষায় আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব: ফরহাদ আজাদ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্কেলপুর রেলস্টেশনের উত্তর পাশে রেল লাইনের পূর্ব পাশে ২০১১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক বাবলু। একই বছরের ১ জুলাই এটি উদ্বোধন করেন বরেণ্য ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন। ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে নির্মিত এই স্থাপনাটি প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পদচারণায় মুখর থাকার কথা থাকলেও এবার ছিল সম্পূর্ণ নিরব।

78f2d55b-1b08-40af-8135-dd47c749c046


বিজ্ঞাপন


রেহেনা বেগম নামের স্থানীয় এক মহিলা বলেন, সাড়া বছর অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে থাকে এই শহীদ মিনারটি। পাশের বস্তির লোকজনেরা নিয়মিত এখানে কাপড়, গোবর (ঘুঁটে) শুকায়। প্রাচীরের অধিকাংশ ভেঙে গেছে। সন্ধ্যার পর মাদক আর জুয়ার আড্ডা চলে শহীদ মিনারের ভেতরে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বাস্তবায়ন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তি যোদ্ধা রাজেন্দ্র প্রসাদ আগরওয়ালা বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগের স্মরণে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক বাবলুর উদ্যোগে ২০১১ সালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার করা হয়। প্রতি বছর মাতৃভাষা ও জাতীয় দিবসগুলোতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হচ্ছিল। এবারে উপজেলা প্রশাসন সবার সম্মতি নিয়ে সরকারি মুজিবর রহমান কলেজ মাঠের শহীদ মিনারে প্রশাসনিকভাবে শ্রদ্ধা জানায়। কিন্তু কোনো একটি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা না জানানো দুঃখজনক।

পৌর সভার সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রউফ মাজেদ বলেন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করার জন্যই শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু আক্কেলপুরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কেউ শ্রদ্ধা নিবেদন না করায় শহীদ মিনারটিকে অবমাননা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা জান্নাত বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের পূর্বে সভা আহ্বান করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত সবার সিদ্ধান্ত মোতাবেক সরকারি মুজিবর রহমান কলেজ মাঠের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কেউ শ্রদ্ধা জানায়নি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

প্রতিনিধি/এসএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর