ঢাকা-১ আসনের (দোহার ও নবাবগঞ্জ) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক বলেছেন, ‘‘আমি জনগণের সেবক হয়ে থাকতে চাই। আমাকে খুশি করার জন্য ‘মাটি ও মানুষের নেতা’, ‘অবিসংবাদিত নেতা’ কিংবা অন্য কোনো উপাধি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এগুলো মূলত তেল দেওয়া; আর আমি তেল দেওয়া পছন্দ করি না।’’
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ৩টার দিকে ঢাকার দোহার উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের সাথে কর্মকর্তাদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও পরিচিতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, ‘আজ থেকে আমি ঘোষণা দিচ্ছি আমার ছবি সংবলিত কোনো ব্যানার বা ফেস্টুন থাকবে না। দয়া করে কেউ এই কাজটি করবেন না। অনেকে আমার ছবি ব্যবহার করে বড় বড় ফেস্টুন ও ব্যানার টাঙিয়েছেন। আমি আপনাদের অনুরোধ করছি, এখন থেকে আর কেউ আমার ছবি ব্যবহার করবেন না। যারা আমার ছবি ব্যবহার করে এসব করছেন, তাদের নিশ্চয়ই কোনো অসৎ উদ্দেশ্য আছে। আমি দোহারের মুকসুদপুর ও নারিশায় দেখেছি অবৈধ বালুর পাহাড় বানিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে এবং সেখানে আমার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। আমার ছবি ব্যবহার করে কোনো অপকর্ম করা যাবে না। দয়া করে আমার ছবি সংবলিত ব্যানারগুলো নামিয়ে ফেলবেন। প্রশাসন যদি দায়িত্ব নিয়ে এগুলো অপসারণের সময় জেল-জরিমানা করে, তবে সে বিষয়ে আমার কাছে সুপারিশ করতে পারবেন না।’
মৈনট ঘাটের অব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘মৈনট একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা। এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ঘুরতে আসেন। কিন্তু তারা এখানে এসে তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে যান। মৈনটে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বালুর ব্যবসা করা হচ্ছে, আমি তা হতে দেব না। আমি গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে চাই এবং এ জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’
সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘ঢাকা-১ আসনে অত্যন্ত সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বাধীনতার পর এত ভালো ভোট এবারই প্রথম। জাল ভোট বা এক প্রার্থীর এজেন্টকে অন্য প্রার্থী বের করে দেওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। জনগণ তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে আমাকে নির্বাচিত করেছেন এবং আমি তাদের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করব। আজকে আমার অনেক দলীয় নেতাকর্মী এখানে উপস্থিত হয়েছেন। আমি আশা করব, ভবিষ্যতে সরকারি কোনো অনুষ্ঠানে অনুমতি ব্যতীত কেউ যেন প্রবেশ না করে, সেদিকে সংশ্লিষ্টরা খেয়াল রাখবেন।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাঈদুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাফফিক সিগবাগ উল্লাহ, দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. রবিউল ইসলাম এবং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আনিছুর রহমান। এছাড়াও কৃষি কর্মকর্তা নিয়াম মাহমুদ মিঠুন, সমাজসেবা কর্মকর্তা, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাকিব হোসেন, সাব-রেজিস্ট্রার সাবরিনা ইয়াসমিন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাবরিনা লাকী, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন এবং যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সামছুন্নাহার খানসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
প্রতিনিধি/একেবি

