শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

চলন্ত ট্রেনের এসি কোচের কনডেন্সার কয়েল চুরি

জেলা প্রতিনিধি, পঞ্চগড়
প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম

শেয়ার করুন:

চলন্ত ট্রেনের এসি কোচের কনডেন্সার কয়েল চুরি

ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া একটি ট্রেনের এসি কোচের কনডেন্সার কয়েল (কম্প্রেসার থেকে আসা গরম গ্যাসকে ঠান্ডা তরলে রূপান্তর করা) চুরির ঘটনা ঘটেছে। 

চুরির পর বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ট্রেনের ক্ষতিগ্রস্ত ‘গ’ নাম্বারের কোচটি পঞ্চগড় রেলস্টেশনে রেখে কম সংখ্যার কোচ নিয়ে রেল পথের ৭৯৪ রেক দিয়ে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস হয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে ট্রেনটি।


বিজ্ঞাপন


বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে ক্ষতিগ্রস্ত কোচটিকে রেলপথের নির্দিষ্ট রেক থেকে আলাদা রেকে রাখা হয়েছে। একই সাথে কোচটি কেরামত না হওয়া পর্যন্ত ওই রেকে ১৩টি কোচের পরিবর্তে ১২টি কোচ নিয়ে বিভিন্ন নামে ট্রেনটি চলাচল করবে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কোচটিকে স্পিয়ার কোচ হিসেবেও ব্যবহার করা হবে বলে জানা গেছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত কোচটির ছাদের উপর কনডেন্সার কয়েলের ঢাকনা উঠে রয়েছে।

জানা গেছে, কোচটি ঢাকা থেকে দ্রুতযান এক্সপ্রেসের সাথে সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনে প্রবেশ করে। এর আগে গতকাল বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসার সময় পথিমধ্যেই দায়িত্বপ্রাপ্তরা বিষয়টি বুঝতে পেরে রেলকর্তৃপক্ষকে অবগত করে। কোচটিতে ৭৮টি এসি চেয়ার ছিল। এতে করে কিছুটা দূর্ভোগে পড়েছে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাওয়া ওই কোচের যাত্রীরা।

এর আগে একইভাবে গেল বছরের ১৬ ডিসেম্বর এর পর ৮ ফেব্রুয়ারির এবং তৃতীয় বারের মত গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) চুরির ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ওই কোচের বিক্রিত টিকিটের টাকা যাত্রীদের ফেরত দেয়া হবে বলে জানান পঞ্চগড় রেলস্টেশনের কর্মকর্তারা।


বিজ্ঞাপন


পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনের ইলেকট্রিক ডিপার্টমেন্টের শ্রমিক মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘মাঝে মধ্যে এমন চুরির ঘটনা ঘটছে। জবাব চাওয়ার পর আমরা আমাদের জায়গা থেকে পরিষ্কারভাবে উত্তর দিচ্ছি। এই চুরির ঘটনাগুলো ঢাকা থেকে আসার সময় পথেই হচ্ছে’।

রেলওয়ে স্টেশনের ইলেকট্রিক অফিসের ইনচার্জ পাভেল মাহমুদ বলেন, ‘ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ে আসার সময় উপর থেকে সেটা কেউ চুরি করে নিয়ে গেছে। এসির কার্যকারীতা কমে গেলে আমাদের দায়িত্বপ্রাপ্তরা বুঝতে পারেন। এসি কোচের জন্য ওই অংশ বা কনডেন্সার কয়েল অতি গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাই সেটিকে রেখে কম সংখ্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। তবে কীভাবে ঘটেছে তা জানার জন্য দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের তলব করা হয়েছে’।

স্টেশন মাস্টার জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, ‘সকালে ট্রেনটি পঞ্চগড় স্টেশনে প্রবেশ করলে ইলেক্ট্রিক্ট ডিপার্টমেন্ট থেকে একটি কোচ বাতিল ঘোষণা করা হয়। মেসেজে তারা জানিয়েছে একটি কনডেন্সার কয়েল মিসিং রয়েছে। একই সাথে ওই কোচের টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখা হয়। এবং যারা ক্রয় করেছে, তারা ওই টিকিটের সমপরিমাণ টাকা ফেরত পেয়েছে’।

প্রতিনিধি/একেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর