শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

শাপলা কলিতে ভোট: পঞ্চগড়ে মসজিদের খতিবকে অব্যাহতি

জেলা প্রতিনিধি, পঞ্চগড়
প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম

শেয়ার করুন:

শাপলা কলিতে ভোট: পঞ্চগড়ে মসজিদের খতিবকে অব্যাহতি

পঞ্চগড় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি নেতা সারজিস আলমের ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের পক্ষে ভোট ও প্রচারণার অভিযোগে পঞ্চগড়ে এক মসজিদের খতিবকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের কুচিয়ামোড় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী খতিবের নাম মাওলানা আব্দুল জব্বার, যিনি ২০০৮ সাল থেকে কুচিয়ামোড় জামে মসজিদে ইমামতি ও খতিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।


বিজ্ঞাপন


স্থানীয় সূত্রমতে, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে জামায়াত জোট মনোনীত প্রার্থী ছিলেন সারজিস আলম। মাওলানা আব্দুল জব্বার ব্যক্তিগতভাবে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তিনি ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের পক্ষে অবস্থান নেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে সারজিস আলম পরাজিত হওয়ার পরদিনই এই অব্যাহতির ঘটনা ঘটে।

খতিব আব্দুল জব্বার জানান, ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকালে আব্দুল হাকিম নামে এক মুসল্লি তাকে ফোন করে মসজিদে আসতে নিষেধ করেন। আব্দুল হাকিম স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। খতিব বলেন আমি দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে এই মসজিদে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছি। কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই আমাকে মৌখিকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পরে জানতে পারি, শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়াই আমার অপরাধ।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সোবহান এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে একজন আলেমকে মসজিদ থেকে সরিয়ে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ।’

অভিযুক্ত আব্দুল হাকিম খতিবের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাকে দায়ী করে বলেন, ‘ইমামের পেছনে সব দলের মানুষ নামাজ পড়েন। তাকে বারবার রাজনীতি করতে নিষেধ করা হলেও তিনি শোনেননি। তাই আমরা নতুন খতিব খুঁজছি।’


বিজ্ঞাপন


অন্যদিকে, মসজিদের সভাপতি আব্দুল হালিম জানান, তাঁরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে পবিত্র রমজান মাসের পর বর্তমান খতিবকে বিদায় দেওয়া হবে।

কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল প্রধান জানান, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ভোটের কারণে কোনো খতিবকে সরিয়ে দেওয়া নিশ্চিতভাবেই অন্যায়। আমি সরেজমিনে গিয়ে প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে দেখব।’

প্রতিনিধি/একেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর