মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে নির্বাচনি প্রচারণা নিয়ে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে তিজন গুলিবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টায় ইউনিয়নের মুন্সিকান্দি গ্রামে এই হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের ফুটবল প্রতীকের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো মহিউদ্দিন আহমেদ ও জেলা বিএনপির সদস্য আতাউর রহমান মল্লিকের সমর্থকরা মুন্সিকান্দি এলাকায় প্রচারণায় বের হন।
এ সময় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান রতনের সমর্থক ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওজির আলী এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক নেতা আওলাদ মোল্লার অনুসারীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে দফায় দফায় ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দে ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় দেশি ও বিদেশি একাধিক বিভিন্ন ভারী অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে দেখা গেছে উভয়পক্ষের সমর্থকদের।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, এসময় ককটেল বিস্ফোরণ ও দফায় দফায় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের তিনজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গুলিবিদ্ধরা হলেন- ফয়সাল (২২), নিরব (১৩), ইকরাম (১০)।
এছাড়া অন্যান্য আহতদের মধ্যে মুন্সিকান্দি গ্রামের লিজন সরকার ও মনির হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি আহতরা স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ওই দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেই বিরোধ পুনরায় মাথাচাড়া দেওয়ায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত।
তিনি আরও জানান, খবর পাওয়ার পরপরই এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এ ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। যৌথ অভিযানে যোগ দিয়েছেন বিজিবি সদস্যরাও।
এএইচ

