বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

সব ধর্মের মানুষকে বুকে ধারণ করে দেশ গড়তে চাই: জামায়াত আমির

আমানুল্লাহ আমান, রাজশাহী
প্রকাশিত: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম

শেয়ার করুন:

সব ধর্মের মানুষকে বুকে ধারণ করে বাংলাদেশ গড়তে চাই: জামায়াত আমির
ডা. শফিকুর রহমান।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা সকল ধর্মের মানুষকে বুকে ধারণ করে বাংলাদেশ গড়তে চাই। আল্লাহর বিধান কখনো কারও ওপর জুলুম করতে পারে না, জুলুম করার প্রশ্নই ওঠে না। এই দেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ সবাইকে নিয়েই আমাদের বাংলাদেশ। আমরা এই জাতিকে আর বিভক্ত হতে দেব না। আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে এগিয়ে যেতে চাই। এজন্য আমাদের ১১ দলীয় জোটের স্লোগান হচ্ছে ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’। জাতিতে জাতিতে ও মানুষে মানুষে কোনো হিংসা-বিদ্বেষ আমরা জিইয়ে রাখতে দেব না।’

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা এমন একটি দেশ চাই যেখানে শান্তিতে বসবাস করা যাবে; যেখানে শিশুরা প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্যের সাথে বেড়ে উঠে সুনাগরিক হবে এবং শিক্ষা শেষে মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান পাবে। মা, বোন ও কন্যারা পাবে পূর্ণ নিরাপত্তা ও মর্যাদা। তারা আল্লাহর দেওয়া সমস্ত অধিকার ভোগ করবে এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় পাবে না।’

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘‘আল্লাহ যাকে সম্মান করতে বলেছেন, আমরা তাকে সম্মান করব। যাকে ভালোবাসতে বলেছেন, তাকে ভালোবাসব। কিন্তু আল্লাহর কসম, আমরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করব না। গত ৫৪ বছর ধরে দেশে একটি ভীতির রাজত্ব কায়েম করে রাখা হয়েছে। গত জুলাইয়ে যারা বুক চিতিয়ে লড়াই করে রক্ত দিয়েছে এবং পঙ্গুত্ব বরণ করেছে, তাদের অঙ্গীকার ছিল একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়বিচারপূর্ণ বাংলাদেশ গড়া। তারা রাস্তায় নেমে একটাই স্লোগান দিয়েছিল ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ (আমরা ন্যায়বিচার চাই)। সমাজে ন্যায়বিচার কায়েম হলে সবাই নিজ নিজ পাওনা বুঝে পাবে। আর সেই ন্যায়বিচারের উৎস হলো আল্লাহর বিধান। আল্লাহর বিধানকে বাদ দিয়ে প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।’’

picture
সমাবেশে উপস্থিত নারীদের একাংশ। ছবি: জামায়াতের ফেসবুক পেজ থেকে। 

তিনি বলেন, ‘আল্লাহ সকল সৃষ্টির স্রষ্টা (খালিক), আর আমরা তার সৃষ্টি (মাখলুক)। মানুষের কোথায় কী প্রয়োজন বা কী দুর্বলতা, তা আল্লাহর চেয়ে ভালো আর কেউ জানেন না। তার দেওয়া বিধানই দুনিয়ার সর্বোত্তম বিধান, যা মানবজাতির জন্য কল্যাণকর।’

দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা জনগণের কাছে ওয়াদাবদ্ধ; আল্লাহর মেহেরবানিতে দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে আমরা কাউকে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি করতে দেব না। এ দেশে রাজার ছেলে রাজা হবে—এমন বংশানুক্রমিক বা পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি আর চলবে না। রাজনীতি হবে মেধা, যোগ্যতা ও দেশপ্রেমের ভিত্তিতে। আধিপত্যবাদী রাজনীতির অবসান ঘটানো হবে। প্রতিবেশী দেশসহ সারা বিশ্বের সাথে আমাদের সম্পর্ক হবে সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে। আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই।’

যুবসমাজের প্রত্যাশা পূরণের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি মানবিক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা মানুষকে প্রকৃত মানুষ ও দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলবে। মায়েরা ঘরে এবং কর্মস্থলে নিরাপদ থাকবেন। শিশু জন্ম নেওয়ার পর তার পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নেবে সরকার। ৫ বছর বয়স পর্যন্ত এবং অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণদের জন্য বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে মেডিকেল কলেজ এবং শ্রমিকদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে।’

picture

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখ দুটি ভোট। একটি গণভোট যেখানে ‘হ্যাঁ’ মানেই নতুন বাংলাদেশ এবং পুরনো খুনের রাজনীতি ও আয়নাঘর প্রথাকে 'লাল কার্ড' দেখানো। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, আর ‘না’ মানে গোলামি। দ্বিতীয় ভোটেও ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যারা লোভ সামলাতে পারে না, তাদের হাতে জনগণের জানমালের আমানত দেওয়া যায় না। দুঃখজনকভাবে যারা একসময় মজলুম ছিলেন, তারাও এখন বদলে গেছেন। দখলদারিত্ব নিতে গিয়ে তারা নিজেদের মানুষকে হারিয়ে এখন আমাদের গালি দিচ্ছেন এবং আক্রমণ করছেন।’

রাজশাহীর উন্নয়নে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজশাহীতে একটি ডেন্টাল কলেজ স্থাপন করা প্রয়োজন। বন্ধ হয়ে যাওয়া সুগার মিলগুলো চুরির কারণে লোকসানে পড়েছে; আমরা এসব মিল পুনরায় চালু করব। ব্লু-ইকোনোমিতে (নীল অর্থনীতি) আমাদের প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। আমরা কারও চোখ রাঙানি পরোয়া না করে দেশের সম্পদ দেশের মানুষের কাজে লাগাব।’

সবশেষে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো দলীয় বা পরিবারতান্ত্রিক সরকার চাই না। আমি জামায়াতে ইসলামীর বিজয়ের চেয়ে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। কোনো অশুভ শক্তি যেন এই নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নস্যাৎ করতে না পারে, সেজন্য নেতাকর্মীদের সিনা মজবুত করে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

dr-shafiq.jpg-raj

রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমির ড. মাওলানা কেরামত আলীর সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতুসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা। জনসভা উপলক্ষে মাদরাসা মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্টদের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ৬০ হাজার নারী কর্মীসহ দেড় লক্ষাধিক নেতাকর্মী এতে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে রাজশাহীর ৬টি আসনে জোটের মনোনীত প্রার্থীদের হাতে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক তুলে দেওয়া হয়।

প্রতিনিধি/একেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর