নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নলচিরা রেঞ্জের ঢালচর বিট এলাকায় সরকারি বনভূমি কেটে জমি দখল করে গৃহ নির্মাণের কাজ চলছে পুরোদমে। বনরক্ষীদের সরাসরি নজরদারি না থাকায় ভূমিদস্যু ও বনদস্যুরা নির্বিঘ্নে বনের গাছ কেটে জমি পরিষ্কার করে তা বিক্রি করছে। এতে দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ বনভূমি বেদখল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হাতিয়া উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড (ঢালচর) এলাকায় মেঘনার বুকে অবস্থিত সরকারি বনটি দক্ষিণে কামাল ফল্টুন থেকে উত্তরে সাইক্লোন সেন্টার রোড পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তবে গত পাঁচ বছরে সাইক্লোন সেন্টার সংলগ্ন সড়ক থেকে দক্ষিণ দিকে প্রায় দেড়শ একর বনভূমি কেটে জমি পরিষ্কার করে সেখানে বসতি স্থাপনের ব্যবস্থা করেছে ভূমিদস্যু ও বনদস্যুরা। তারা দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বনের জমিতে ঘর তুলে দিচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গম এলাকার অজুহাতে বনবিভাগের নজরদারি অত্যন্ত দুর্বল। ফলে দখলদাররা সুযোগ নিয়ে দিনের পর দিন বন উজাড় করছে।
বিজ্ঞাপন
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে নতুন করে একটি চক্র বন কাটার কাজ শুরু করেছে। মাটি কেটে দ্রুতগতিতে কয়েকটি ঘর নির্মাণ করে ফেলেছে। বনের জমি দাগপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, স্থানীয় ও বহিরাগত ভূমিদস্যুরা ঢালচরের পুরাতন মসজিদ সংলগ্ন সরকারি বনের গাছ কেটে জমি পরিষ্কার করছে। গত প্রায় ১০ দিন ধরে প্রকাশ্যেই বন কাটার কাজ চলছে। ভয়ের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। ফলে অপরাধীদের নামও প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।
তারা জানান, বন বিভাগের লোকজন এখানে নিয়মিত থাকেন না। মাঝে মাঝে এসে দেখে যান। তবে বনদস্যুদের নামের তালিকা বনবিভাগের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে ঢালচর বিট ও নলচিরা রেঞ্জের বন কর্মকর্তা আল-আমিন গাজী বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে বনদস্যুরা। কিছুদিন আগে আমাদের লোকজন ঢালচরে গিয়ে বন কাটার ও গৃহ নির্মাণের ছবি সংগ্রহ করেছে। হাতিয়া থানার ওসিকে জানানো হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোয়াখালী জেলা উপকূলীয় বন কর্মকর্তা মোল্লা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মোবাইল ফোনে জানান, বনদস্যুরা নির্বাচনের এই সময়টাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। আমরা বন ও ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।
ক.ম/

