মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

যারা ১৭ বছর পালিয়ে ছিল তারা জনগণের বন্ধু হতে পারে না: এটিএম আজহারুল

জেলা প্রতিনিধি, নীলফামারী
প্রকাশিত: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০০ পিএম

শেয়ার করুন:

যারা ১৭ বছর পালিয়ে ছিল তারা জনগণের বন্ধু হতে পারে না: এটিএম আজহারুল
নীলফামারী-২ আসনে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন এটিএম আজহারুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে কিংবা দীর্ঘ ১৭ বছর দেশ ছেড়ে পালিয়ে ছিল, তারা কখনোই জনগণের বন্ধু নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম। মৃত্যুর ভয়ে জামায়াতের কোনো নেতা কখনো দেশ ছেড়ে পালায়নি। বরং হাসিমুখে ফাঁসির মঞ্চে গিয়েছেন, কিন্তু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য বিদেশে আশ্রয় নেননি বলেন তিনি।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নীলফামারী-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফের পক্ষে স্থানীয় শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


বিজ্ঞাপন


এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, এ দেশে সম্পদের কোনো অভাব নেই। যদি অভাব থাকত, তাহলে গত ১৭ বছরে দেশ থেকে ২৭ হাজার কোটি টাকা পাচার হতো না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ৫৪ বছর ধরে দুর্নীতিবাজরা দেশ শাসন করেছে এবং দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে। বিগত সরকার ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান লুটপাট করেছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যদি দেশ সেবার সুযোগ পায়, তাহলে সর্বপ্রথম দুর্নীতি বন্ধ করা হবে। দুর্নীতি বন্ধ করা গেলে দেশের অর্ধেকের বেশি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। জামায়াত দুর্নীতি করে না, ভবিষ্যতেও করবে না এবং কাউকে দুর্নীতি করতে দেবে না। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ হলে দেশ শুধু সিঙ্গাপুরের মতো নয়, তার চেয়েও উন্নত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

picture

যাকাতভিত্তিক অর্থনীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে দ্বিতীয় যে কাজটি করবে তা হলো মুসলিম প্রধান এ দেশে যাকাত আইন চালু করা। সঠিকভাবে যাকাত আদায় করা গেলে বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ সম্ভব। দুর্নীতি সম্পূর্ণ বন্ধ এবং যাকাতভিত্তিক অর্থনীতি বাস্তবায়ন হলে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।


বিজ্ঞাপন


তিনি বলেন, গত ৫৪ বছরে মানুষ নৌকা, ধানের শীষ ও লাঙ্গল প্রতীক দেখেছে, কিন্তু দাঁড়িপাল্লার প্রতীককে কখনো ক্ষমতায় দেখেনি। সব দলকে দেখা শেষ, এবার একবার দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে জামায়াতকে সুযোগ দিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা নিয়ে এক দলের নেতার বক্তব্যের সমালোচনা করে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, জামায়াতের অভিজ্ঞতা নেই বলা হয়, হ্যাঁ আমাদের অভিজ্ঞতা নেই দুর্নীতি করার। তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জামায়াতের দুইজন মন্ত্রী তিনটি মন্ত্রণালয় পরিচালনা করেছেন। অন্যান্য মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও এই তিনটি মন্ত্রণালয়ে একটি টাকার দুর্নীতিও কেউ প্রমাণ করতে পারেনি। এতে প্রমাণ হয়েছে, সততা ও যোগ্যতা থাকলে দুর্নীতিমুক্তভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব।

picture

বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যিনি ১৭ বছর দেশ ছেড়ে ছিলেন, তার মুখে পালিয়ে না যাওয়ার কথা শোভা পায় না। ক্ষমতায় যাওয়ার আগে অসত্য কথা বলা ব্যক্তি ক্ষমতায় গেলে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পারিবারিক রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিবারতন্ত্র দিয়ে গণতন্ত্র বিকশিত হয় না। দেশ ও জাতির নেতৃত্বে প্রয়োজন মেধা ও যোগ্যতা। পরিবারতন্ত্রের কারণে এ দেশের জনগণের কোনো কল্যাণ হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং শহর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী অ্যাড মামুনুর রশীদ পাটোয়ারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন প্রার্থী অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফ, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, জেলা আমীর অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তারসহ জোটের বিভিন্ন নেতাকর্মী।

এরপরে তিনি সন্ধ্যায় নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম এর কিশোরগঞ্জ উপজেলা ষ্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

এআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর