শ্রমিকদলের ডাকা ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরে দিনভর অচলাবস্থার পর শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে আবারও মিছিল, সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, পথসভা নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ-সিএমপি। তবে সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজের সই করা এ গণবিজ্ঞপ্তির কথা জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে। এ নিয়ে সিএমপি কমিশনার এ পর্যন্ত তিন দফা এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
বিজ্ঞাপন
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এবং এটি ১ক শ্রেণির কেপিআইভুক্ত। দেশের মোট আমদানি ও রফতানির সিংহভাগ কার্যক্রম এই বন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়। দৈনন্দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য, শিল্প কারখানার কাঁচামালসহ আমদানি ও রফতানিযোগ্য পণ্য পরিবহনে প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ভেহিকেল ও প্রাইম মুভার বন্দরে চলাচল করে। এই বিপুল সংখ্যাক যানবাহনের কারণে বন্দরের আশপাশে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বন্দর এলাকায় যেকোনো ধরনের মিছিল, সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, পথসভার কারণে যানজট সৃষ্টি হয়। ফলে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়। যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য মারাত্নক ক্ষতিকর এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। তাই চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন ও স্বাভাবিক রাখাসহ জনশৃঙ্খলা, শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন বারেক বিল্ডিং মোড়, নিমতলা মোড়, ৩ নম্বর জেটি গেইট, কাস্টমস মোড়, সল্টগোলা ক্রসিংসহ আশপাশের এলাকায় অস্ত্রশস্ত্র, তলোয়ার, বর্শা, বন্দুক, ছোরা, লাঠি, বিস্ফোরক দ্রব্য, ইট-পাথর বহন ও ব্যবহার এবং যে কোনো ধরনের মিছিল, সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন ও পথসভা ১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিট হতে ২ মার্চ পর্যন্ত ১ মাসের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হল।
তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা, মিছিল ও সমাবেশ এই নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এনসিটি ইজারা ইস্যুতে শ্রমিক দলের ডাকা আট ঘণ্টার ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কার্যত অচল ছিল। এই আন্দোলন নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের চাকরিবিধি মোতাবেক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিল। যা উপেক্ষা করে শনিবার কর্মসূচির প্রথম দিনে ঘোষিত কর্মসূচি পালন করেন শ্রমিকরা।
কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া শ্রমিক-কর্মচারি ঐক্য পরিষদ (স্কপ) রোববার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দর ভবন অভিমুখে কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আর এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিএমপির পক্ষ থেকে মিছিল ও সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় বলে দাবি শ্রমিকদের।
বিজ্ঞাপন
আন্দোলনকারীরা জানান, বন্দরের এনসিটি টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে গত কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ করে আসছিলেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। ফলে গত বছরের ১১ অক্টোবর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত একইভাবে মিছিল-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল সিএমপি।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৮ এর ৩০ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সিএমপি কমিশনার এ পর্যন্ত তিন দফা এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন বলে জানান চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন।
প্রতিনিধি/টিবি

