মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

দুর্নীতি ও নির্যাতন থেকে মুক্তি চাইলে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন: দেলাওয়ার

জেলা প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম

শেয়ার করুন:

দুর্নীতি ও নির্যাতন থেকে মুক্তি চাইলে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন: দেলাওয়ার

৫ আগস্টের আগে দেশে যেভাবে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি ও জুলুম চলছিল, ৫ আগস্টের পরেও সেই একই কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে এমন মন্তব্য করেছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ১১-দলীয় জোটের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামী নেতা মো. দেলাওয়ার হোসেন। তিনি বলেন, “শুধু ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে, কিন্তু কাজের কোনো পরিবর্তন হয়নি।”

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রাজাগাঁও ইউনিয়নের পাটিয়াডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।


বিজ্ঞাপন


দেলাওয়ার হোসেন বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর যারা চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করেছে, দোকানপাট, বাড়িঘর ও জলাশয় লুটপাট করেছে, হিন্দু ভাইদের ঘরে আগুন দিয়েছে এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করছে আপনারা কি আবারও তাদের ভোট দেবেন, নাকি প্রত্যাখ্যান করবেন, সেই সিদ্ধান্ত আপনাদেরই নিতে হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “যদি চাঁদাবাজি ও নির্যাতন অব্যাহত রাখতে চান, তবে তাদের ভোট দিন। আর যদি এসব থেকে মুক্তি চান এবং সমাজ থেকে দুর্নীতিবাজদের নির্মূল করতে চান, তবে ‘দাঁড়িপাল্লা’ মার্কায় ভোট দিন।”

নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে এই জামায়াত নেতা বলেন, জামায়াতের নারী কর্মীরা ভোট চাইতে গেলে বিভিন্ন স্থানে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে বিএনপির কিছু কর্মী নির্দিষ্ট এলাকায় জামায়াত নেতাকর্মীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন।

দেলাওয়ার হোসেন আরও বলেন, “সংবিধান অনুযায়ী প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জনগণের কাছে ভোট চাওয়ার অধিকার রয়েছে। এই অধিকারে বাধা দেওয়া হলে আমরা আইনসম্মতভাবে এর প্রতিবাদ জানাব।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “শান্তিপূর্ণ আচরণকে দুর্বলতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নির্বাচিত হওয়ার আগেই যদি হুমকি বা বাধা আসে, তবে তা আমরা মেনে নেব না। ছাত্রশিবির যখন জেগে উঠবে, তখন প্রতিপক্ষ পালানোর পথ খুঁজে পাবে না।”


বিজ্ঞাপন


নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জামায়াত বা ছাত্রশিবিরের কোনো কর্মী কখনো প্রতিপক্ষকে প্রচারণায় বাধা দেয়নি এবং ভবিষ্যতেও দেবে না। আগামী ১২ তারিখ ব্যালটের মাধ্যমে জনগণ সকল অন্যায়ের দাঁতভাঙা জবাব দেবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রবীণ নেতাদের রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “যাদের বয়স ৭০ বছর পেরিয়েছে, তাদের উচিত তরুণদের সুযোগ করে দেওয়া। এই বয়সে দেশ ও জাতিকে দেওয়ার মতো তেমন কিছু আর থাকে না।”

ঠাকুরগাঁওয়ের সার্বিক উন্নয়ন, অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন তিনি। জনসভায় ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের শহর শাখা সভাপতি মাহমুদুল হাসানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিনিধি/একেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর