বাগেরহাটে জানাজা শেষে সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও ৯ মাস বয়সী শিশু সন্তানকে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে। এর আগে প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে মাত্র পাঁচ মিনিট স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখার সুযোগ পান কারাবন্দি সাদ্দাম।
এই মৃত্যুর ঘটনা এবং প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ার বিষয় নিয়ে এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে। নিহত কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর পরিবার মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. হাছান চৌধুরী।
বিজ্ঞাপন
নিহত স্বর্ণালীর বাবা শেখ রুহুল আমিন বলেন, ‘মৃত্যুর বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে প্রশাসনের সর্বাত্মক সহায়তা চাই।’ একই সঙ্গে শেষ সময়ে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য নিয়ে কথা বলেছেন সাদ্দাম ও স্বর্ণালীর পরিবারের সদস্যরা। তারা জানিয়েছেন, দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো ছিল। সাদ্দাম জেলে থাকলেও তার পরিবারে কোনো অভাব ছিল না বলে জানিয়েছেন নিহতের ভাই।
ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের মামা মো. হেমায়েত উদ্দিন জানান, গত ২৩ জানুয়ারি প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়। জেলা প্রশাসক তাকে বাগেরহাট জেলা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই; বরং আইন অনুযায়ী যে কারাগারে আসামি বন্দি আছেন, সেখানেই আবেদন করতে হবে। পরে আর কোনো উপায় না পেয়ে যশোর কারাগারে মরদেহ নিয়ে গেলে সেখানে দেখার সুযোগ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ‘কারা আইন অনুযায়ী প্যারোলে মুক্তির আবেদনটি যথাযথ না হওয়ায় সেটি অনুমোদন দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাদের যশোরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।’
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে জানাজা শেষে কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী (২২) ও তার ৯ মাস বয়সী সন্তান নাজিমকে পাশাপাশি দাফন করা হয়। স্বর্ণালীর বাবা শেখ রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে পৌঁছায়। স্বজনদের আবেদনের পরও প্যারোলে মুক্তির অনুমতি না মেলায় মানবিক বিবেচনায় কারা কর্তৃপক্ষ ছয়জন নিকটাত্মীয়সহ মরদেহ কারাগারের ভেতরে নেওয়ার অনুমতি দেয়। সেখানে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য স্ত্রী-সন্তানকে শেষবারের মতো দেখেন জুয়েল হাসান সাদ্দাম।
স্বজনরা জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে মরদেহ নিয়ে কারাগারে পৌঁছান তারা। সঙ্গে দুটি মাইক্রোবাসে ১২-১৫ জন আত্মীয় ছিলেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় অ্যাম্বুলেন্সটি কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করে এবং কিছুক্ষণ পরই আবার বাইরে বের করে দেওয়া হয়।
গত শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় ৯ মাসের শিশু নাজিমের মরদেহ। পুলিশ সুপার মো. হাছান চৌধুরী জানান, স্বর্ণালীকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয় মেঝে থেকে।
জুয়েল হাসান সাদ্দাম বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন তিনি। বর্তমানে একাধিক মামলায় তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। মা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বাগেরহাট সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
প্রতিনিধি/একেবি

