নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমানকে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় বদলি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সামিউল আমিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপণে তাকে বদলি করা হয়।
বিজ্ঞাপন
আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে ইউএনও মাসুদুর নিজেই বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে জেলার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুড়া রাজারে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানের ভাই পরভেজসহ কয়েকজন মিলে সরকারি জায়গা দখল করে ঘর তুলছিলেন। স্থানীয়রা খবর দিলে ইউএনও গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়ে পারভেজকে আটক করে। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান গিয়ে ইউএনওকে শাসিয়ে বলেন, ‘এখানে কার অনুমতিতে এসেছেন। আমি এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, আমার ইউনিয়নে মোবাইলকোর্ট করতে হলে আমাকে বলতে হবে।’
ইউএনও প্রশ্ন করেন, এটা কোন আইনে আছে? তখন চেয়ারম্যান বলেন, এটা ইউনিয়ন পরিষদ আইনে আছে।
চেয়ারম্যানের এমন বক্তব্যের ভিডিও তাৎক্ষণিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এ নিয়ে গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশ হয়। এতে চারদিকে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় পরদিন (১৮ জানুয়ারি) লেংগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূইয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।
এর একদিন পর গতকাল মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপণে কলমাকান্দা উপজেলার ইউএনও মাসুদুর রহমানকে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ইউএনও হিসেবে বদলি করে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন। তিনি নিজের আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ এক ফেসবুক পোস্টে ইউএনও মাসুদুর রহমানের বদলির আদেশের কপি সংযুক্ত করে এর প্রতিক্রিয়ায় লিখেন, ন্যায় যখন পরাজিত হয় অন্যায় তখন শক্তিশালী হয়ে ওঠে। চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান ইউএনওর কাজে বাধা প্রধান করেন এবং বলেন, তার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে। চেয়ারম্যান স্পষ্টতই আইন লঙ্ঘন করেছেন এজন্যই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাকে বহিষ্কার করেছে। কিন্তু যে ইউএনও দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন তাকেই আবার একদিনের ব্যবধানে নেত্রকোণা থেকে পিরোজপুর বদলি করা হয়েছে অথ্যাৎ ন্যায় কাজ করতে গিয়ে শাস্তির সম্মুখীন হয়েছেন।
ন্যায় কাজ করতে গিয়ে যদি শাস্তি পেতে হয় তাহলে তারা ন্যায় কাজ করবেন নাকি অন্যায় কাজ করবেন? এই ইউএনওকে কেনো বদলি করা হয়েছে এবং কোন ক্ষমতায় বদলি করা হয়েছে একজন নাগরিক হিসেবে এর উত্তর জানতে চাই। পাশাপাশি কারা তাকে বদলির জন্য সুপারিশ করেছে সেটিও জানতে চাই। আজকের মধ্যে তাকে কলমাকান্দা উপজেলায় বহাল করতে হবে এবং এটা করে রাষ্ট্রকে প্রমাণ করতে হবে রাষ্ট্র ন্যায় বিচারক। তার বদলির বিষয়ে বিএনপির যদি কেউ জড়িত থাকে সেটিও প্রকাশ করতে হবে। ড. মোহাম্মদ ইউনূস প্লিজ আপনি বিদায় নেন, আপনাকে আর এক মুহূর্তের জন্যও সহ্য করতে পারছি না। রাষ্ট্র পরিচালনায় আপনি অযোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন বার বার।
উল্লেখ্য, মাসুদুর রহমান গত ১৪ ডিসেম্বর জেলার কলমাকান্দা উপজেলার ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন।
প্রতিনিধি/টিবি

