“আমরা যদি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করতে না পারি, তবে ক্যানসার রয়ে যাবে। শুধু পালিয়ে যাওয়ার শক্তি ছাড়া দেশের সব রাজনৈতিক দলই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ চায়। এই ভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী না হলে নাগরিক হিসেবে আমরা ঠকে যাব।”
আজ সোমবার সন্ধ্যায় নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গণভোট সম্পর্কিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
বিজ্ঞাপন
উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “৩৫টি রাজনৈতিক দল মিলে ৭২টি সভা করেছে এবং ৮৪টি বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছেছে। এই ঐক্যমতের ভিত্তিতে আপনারা বৈষম্যহীন রাষ্ট্র এবং দেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হোক চান কি না তা আপনাদের রায়ের ওপর নির্ভর করছে। আপনাদের বিদ্যমান সমস্যার সমাধানের ভিত্তি হোক আমাদের ঐক্যের দলিল ‘সংবিধানের সংস্কার’। এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় সকলে অংশগ্রহণ করুন এবং ভোট দিয়ে আপনাদের সমর্থন জানান।”
গণভোটের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আপনারা যদি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেন, তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরে আসবে। এই ব্যবস্থা একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা দেবে, যেখানে জনগণের সর্বোচ্চ সমর্থন পাওয়া দলটিই নির্বাচিত হবে। অন্যথায়, বিগত তিনটি নির্বাচনের মতো প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও এমপিরা নিজ নিজ পদে থেকেই নির্বাচনের নাটক করবেন। আপনারা ভোট দিতে পারলেন কি না তাতে কিছু আসবে-যাবে না, অথচ একটি ‘নামধারী’ সরকার ক্ষমতায় থেকে যাবে। আপনারা যদি এমন নির্বাচন ব্যবস্থা না চান, তবে অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন।”
শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচনা করে উপদেষ্টা বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী অহেতুক বড় বড় প্রকল্প নিয়েছিলেন। অধিকাংশ স্থলবন্দরের কোনো প্রয়োজন ছিল না এবং এগুলোর কোনো কার্যকারিতাও নেই। অথচ হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে, যার ৯০ শতাংশই অপচয়। সেখানে অসম্ভব রকম দুর্বৃত্তায়ন হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “যাঁরা দেশপ্রেমিক ছিলেন, তাদের শেখ হাসিনা হত্যা ও গুম করেছেন। তাদের পরিবারের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে। এই আন্দোলনে ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।”
বিজ্ঞাপন
এর আগে বিকেলে সদর উপজেলার হিরণপুর গ্রামে এক উঠান বৈঠকে যোগ দেন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। সেখানেও তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত তৈরি ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে বক্তব্য রাখেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন এই উঠান বৈঠকের আয়োজন করে।
প্রতিনিধি/একেবি

