সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

অবশেষে সন্দ্বীপে যুক্ত হলো ভাসানচর

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১৭ পিএম

শেয়ার করুন:

অবশেষে সন্দ্বীপে যুক্ত হলো ভাসানচর

অবশেষে চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার সঙ্গে যুক্ত হলো বহুল আলোচিত ভাসানচর। চরটির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছিল সন্দ্বীপ ও নোয়াখালী জেলার হাতিয়াবাসীর মধ্যে।


বিজ্ঞাপন


সর্বশেষ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের গঠিত কারিগরি কমিটি ভাসানচরকে সন্দ্বীপের অন্তর্গত বলে প্রতিবেদন দিয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনে সরেজমিন পরিদর্শন, ঐতিহাসিক দলিলের মূল্যায়ন ও স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণ করে দ্বীপটির ছয়টি মৌজা সন্দ্বীপের অন্তর্গত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার ভূমি মন্ত্রণালয়ের জরিপ শাখা সেই মোতাবেক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে।

সন্দ্বীপের স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ১৯৯২ সালে সন্দ্বীপের ন্যায়ামস্তি ইউনিয়ন সাগরগর্ভে বিলীন হয়। ভাঙনের পরপরই সেখানে পুনরায় চর জাগতে শুরু করে। দক্ষিণ উপকূলের কাছাকাছি নতুন ভূমি জেগে ওঠা শুরু হয় গত শতকের নব্বইয়ের দশকে, বন বিভাগের তথ্যসূত্র জানাচ্ছে। এরপর কয়েক দশক ধরে দ্বীপের ভূমির পরিমাণ বাড়তে থাকে।

স্থানীয়ভাবে ঠ্যাঙ্গারচর নামে পরিচিত হলেও ২০১৭ সালের দিকে রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের আলোচনার মধ্যেই দ্বীপটির নামকরণ করা হয় ভাসানচর। সেই বছর দিয়ারা জরিপের মাধ্যমে সেটিকে নোয়াখালীর অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হলে সন্দ্বীপের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।


বিজ্ঞাপন


২০২১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ ভাসানচর থানার গঠন প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেই প্রজ্ঞাপনেও দ্বীপটিকে হাতিয়া ও নোয়াখালীর অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হলে সন্দ্বীপের ছাত্র ও পেশাজীবীদের মধ্যে বিক্ষোভ দেখা দেয়।

মনিরুল হুদা নামের সন্দ্বীপের এক সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি উচ্চ আদালতে আবেদন করেন। আদালত নির্বাহী বিভাগের প্রতি জটিলতা নিরসনের উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দেন, তবে তা কার্যকর হয়নি।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, নির্বাহী বিভাগ আদালতের নির্দেশ মোতাবেক চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলার সরকারি কর্মকর্তা ও পেশাজীবীদের সমন্বয়ে ১৮ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে। কমিটিতে চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার, জেলা প্রশাসকসহ সন্দ্বীপ ও হাতিয়া উপজেলা থেকে তিনজন করে পেশাজীবীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

গত ৯ মার্চ কমিটির প্রথম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, সিএস ও আরএস জরিপ এবং স্যাটেলাইট ইমেজ পর্যালোচনা করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের রাজস্ব বিভাগ ভাসানচরকে সন্দ্বীপের ভূমি হিসেবে প্রতিবেদন জমা দেয়। তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের জন্য আরও সময় নেওয়া হয়েছিল।

সূত্র জানাচ্ছে, সন্দ্বীপ থেকে মাত্র আড়াই কিলোমিটার দূরে জেগে ওঠা নতুন দ্বীপ ভাসানচর। এটি ভাঙনে বিলীন হওয়া ন্যায়ামস্তি ইউনিয়নের জায়গায় গড়ে উঠেছে। দ্বীপটি বর্তমানে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দখলে। ফলে দ্বীপটি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত।

এআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর