রোববার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

এসএসসির ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, প্রতিবাদ করায় অভিভাবক লাঞ্ছিত

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম

শেয়ার করুন:

এসএসসির ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, প্রতিবাদ করায় অভিভাবক লাঞ্ছিত
মাঘান উচ্চ বিদ্যালয় ও অভিযোগের কপি।

নেত্রকোনার মদন উপজেলার মাঘান উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপে  শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদ করায় অভিভাবককে লাঞ্ছিত করার লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে আজ রোববার (১৮ জানুয়ারি) জুমন মিয়া নামে এক অভিভাবক  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।


বিজ্ঞাপন


জুমন মিয়া উপজেলার রানীহালা গ্রামের বাসিন্দা। তার চাচাতো ভাই সোহান মিয়া মাঘান উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

লিখিত অভিযোগ ও শিক্ষার্থী অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাঘান উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপ চলমান রয়েছে। সরকার নির্ধারিত ফি ২ হাজার ৩১৫ টাকা। কিন্তু প্রতি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫ থেকে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।

জুমন মিয়া অভিযোগে বলেন, আমার চাচাতো ভাই সোহান মিয়া মাঘান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষা দেবে। পরীক্ষার ফরম ফিলাপ চলমান রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার  সোহানকে নিয়ে ফরম ফিলাপ করানোর জন্য স্কুলে যাই। গিয়ে জানতে পারি সরকার কর্তৃক ফরম ফিলাপ ফি ২ হাজার  ৩১৫ টাকা ধার্য থাকলেও প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ৯ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। এত টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে সোহানকে পরীক্ষা দিতে দেওয়া হবে না বলে জানান সহকারী শিক্ষক আব্দুল গণি। পরে টাকা জমা দেওয়ার রশিদ চাইলে ক্ষিপ্ত হন তিনি। একপর্যায়ে ওই শিক্ষক আমাকে গালাগাল ও অপমান করে স্কুল থেকে বের করে দেন। একই সময়ে আরও দুইজন অভিভাবককেও তিনি গালাগাল ও অপমান করে বের করে দেন। আজ রোববার এ ঘটনায় বিচার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন জুমন মিয়া।

dec69197-e467-4faf-85b1-de96af41933c


বিজ্ঞাপন


এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীর অভিভাবক জুমন মিয়া জানান, আমার চাচাতো ভাইয়ের ফরম ফিলাপ করতে  বিদ্যালয়ে যাই। ফরম ফিলাপ ও কোচিং ফি বাবদ ৯ হাজার টাকা দাবি করে। আমি দিতে অপারকতা করলে আমাকে গালমন্দ শুরু করে। ৯ হাজার টাকা জমা দিয়ে রশিদ চাওয়ায় আমাকে স্কুল থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য লাঞ্ছিত করে শিক্ষক আব্দুল গণি। বিচার চেয়ে ইউএনও স্যারের কাছে অভিযোগ দিয়েছি।

জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক আব্দুল গণি জানান, বাড়তি টাকার নেওয়ার সুযোগ নাই।  আমরা যাদের ফরম ফিলাপ করেছি তারা অভিযোগ করুক। অন্য কেউ অভিযোগ দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

আরও পড়ুন

মিরসরাই হোটেল থেকে রুটি আনতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার শিক্ষার্থী

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম (খোকন) জানান, ফরম ফিলাপ বাবদ ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। বাড়তি টাকার বিষয়ে গণি মাস্টার জানেন। অভিভাবক লাঞ্ছিত হওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল বারী জানান, ফরম ফিলাপের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী জানান, আমি জেলায় মিটিংয়ে আছি। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এসএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর