রোববার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

বীরগঞ্জে আলোচিত দানিয়ূল হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন

জেলা প্রতিনিধি, দিনাজপুর
প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম

শেয়ার করুন:

বীরগঞ্জে আলোচিত দানিয়ূল হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থানার আলোচিত দানিয়ূল ইসলাম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। দীর্ঘ এক মাসের নিবিড় তদন্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. আনোয়ার হোসেন।


বিজ্ঞাপন


গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন— মো. আবু বক্কর ওরফে বাদশা বাগের হাট জেলার সদর থানার উৎকুল গ্রামের মো. মোতালেব শেখ এর ছেলে, মো.দ শাহ্ আলম কল্লোল দিনাজপুর জেলার সদর উপজেলার উত্তর বালুবাড়ি এলাকার মৃত মো. আলহাজ রজব আলীর ছেলে, মোছা. সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপি বীরগঞ্জ উপজেলার আরাজি চৌপুকুরিয়া এলাকার মৃত দানিয়ূল ইসলামের স্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, তদন্তের এক পর্যায়ে প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের অবস্থান খুলনা ও বাগেরহাট জেলায় শনাক্ত করা হয়। গত ৮ জানুয়ারি ২০২৬ খুলনা ও বাগেরহাটে অভিযান পরিচালনা করা হলেও সে সময় অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযুক্ত আবু বক্কর ওরফে বাদশার ভাড়া বাসা থেকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে গত ১৬ জানুয়ারি খুলনা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে র‍্যাব-৬ (খুলনা)-এর সহযোগিতায় অভিযুক্ত মো. আবু বক্কর ওরফে বাদশাকে(২৬) গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুর শহরের বালুবাড়ী এলাকা থেকে মো. শাহ আলম কল্লোল (৫৬) এবং বীরগঞ্জ উপজেলার আরাজি চৌপুকুরিয়া এলাকা থেকে মোছা. সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপিকে(৪১) গ্রেফতার করা হয়।

তিনি আরও জানান, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়— অভিযুক্ত শাহ আলম কল্লোল ও মোছা. সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপি পরস্পর যোগসাজশে আবু বক্কর ওরফে বাদশার মাধ্যমে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে পেশাদার খুনি ভাড়া করেন। দানিয়ূলকে হত্যার জন্য তারা দীর্ঘদিন সুবিধাজনক সময়ের অপেক্ষা করতে থাকেন।


বিজ্ঞাপন


গত ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে বীরগঞ্জ থানাধীন আরাজি চৌপুকুরিয়া গ্রামে জিন্দাপীর মেলা চলাকালে ব্যাপক লোকসমাগম হওয়ায় অভিযুক্তরা এটিকে হত্যাকাণ্ডের জন্য উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচনা করেন। এ সময় আবু বক্কর ওরফে বাদশার মাধ্যমে অজ্ঞাত ভাড়াটে খুনি চক্রকে দিনাজপুরে ডেকে আনা হয়।

অভিযুক্ত মোছা. সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপি হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা করেন এবং দানিয়ূলের বাসায় কীভাবে প্রবেশ করে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হবে সে বিষয়ে একটি শর্ট ভিডিও তৈরি করে শাহ আলম কল্লোলের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠান। পরবর্তীতে আবু বক্কর ওরফে বাদশা তার সহযোগী পেশাদার খুনি বাহিনী নিয়ে দিনাজপুর সদরের বালুবাড়ী এলাকায় শাহ আলম কল্লোলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং দানিয়ূলের বাসার চাবি বুঝে নেন।

হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাসংক্রান্ত ভিডিওটি দেখে এবং পূর্বে ঘটনাস্থলে রেকি করার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তারা হত্যার উদ্দেশ্যে রওনা হন। গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আনুমানিক ভোর রাতে আবু বক্কর ওরফে বাদশা ও তার সহযোগী পেশাদার খুনি বাহিনী দানিয়ূলের গলা কেটে হত্যা নিশ্চিত করে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহ আলম কল্লোল বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

প্রতিনিধি/ এজে

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর