সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সেবা নিয়ে রোগীর স্বজন ও শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের মধ্যে মারামারির ঘটনায় পুলিশ রোগীর ৩ স্বজনকে আটক করেছে।
শনিবার ১৭ জানুয়ারি তাদের আটক করা হয়। রোববার (১৮ জানুয়ারি) তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রোগীর স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর ও শিক্ষানবিশ চিকিৎসককে হেনস্তা করার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার খৈতর গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে শিমুল আহমদ (৩৫), একই গ্রামের শিমুল আহমদের স্ত্রী নাজিরা সিদ্দিকা (৩২) ও ছাতক থানাধীন দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা জাবেদ মিয়া (৩০)।
এ ঘটনায় শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল থেকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা।
এর আগে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের চারতলার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটেছে।
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় পুলিশ ১ নারী ও দুজন পুরুষকে আটক করেছে। তাদের মধ্যে দুজন আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আটক ব্যক্তিরা সবাই সুনামগঞ্জের বাসিন্দা বলে পুলিশ জানায়।
পুলিশ সূত্র জানায়, হামলার ঘটনার খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল শুক্রবার রাতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। এসময় হাসপাতালের ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ১ নারীসহ তিনজনকে আটক করেছে। তারাও আহত হন।
আহতদের মধ্যে এক নারী ও একজন পুরুষকে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্য পুরুষকে কোতোয়ালি থানায় রাখা হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার রাতেই এক বিবৃতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানান, মধ্যরাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত একজন নারী শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের ওপর ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটেছে।

একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে, বিশেষ করে একজন নারী চিকিৎসকের ওপর এ ধরনের হামলা আমাদের জন্য চরম লজ্জাজনক ও উদ্বেগজনক। এই বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি ও অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে ইন্টার্ন ও জুনিয়র চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই।
তারা বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা এই হামলার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিলেট কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল জাকির জানান, পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। হামলার ঘটনার পর পরই পুলিশ নারীসহ ৩ জনকে আটক করেছে। অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এসএস

