রোববার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

জামায়াতের নেতাসহ ৪ জন কারাগারে, বিএনপির ৩ নেতার জামিন

জেলা প্রতিনিধি, বরগুনা
প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:১৪ এএম

শেয়ার করুন:

জামায়াতের নেতাসহ ৪ জন কারাগারে, বিএনপির ৩ নেতার জামিন

বরগুনার পাথরঘাটায় সংঘর্ষ ও সহিংসতার মামলায় পৌর জামায়াতের আমির বজলুর রহমানসহ চারজনের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় গ্রেফতার বিএনপির তিন নেতাকে জামিন দিয়েছেন বিচারক।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক পনির শেখ এ আদেশ দেন। আদেশের পর জামিন নামঞ্জুর হওয়া চার আসামিকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।


বিজ্ঞাপন


এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পাথরঘাটা পৌর শহরের ঈমান আলী সড়কে নিজের মালিকানাধীন একটি ফার্মেসি থেকে পৌর জামায়াতের আমির বজলুর রহমানকে গ্রেফতার করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তিনি সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানাযায়, শুক্রবার গভীর রাতে পাথরঘাটা পৌর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে যৌথবাহিনীর অভিযানে জামায়াত ও বিএনপির ছয় নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন রায়হানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ (৫৭), পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব ওমর সানী (৩০), পাথরঘাটা পৌর ২ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াত নেতা নাসির চৌধুরী (৪৭), পৌর ৫ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রশিবির নেতা আব্দুর রহমান (২৬), চরদুয়ানী ইউনিয়নের দক্ষিণ জ্ঞানপাড়া ওয়ার্ড জামায়াত নেতা নাসির শেখ (২৫) এবং একই ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা মোস্তফা হাওলাদার (৫৩)।

আদালতের আইনজীবী নাহিদ সুলতানা লাকি জানান, আবুল কালাম আজাদ, ওমর সানী ও মোস্তফা হাওলাদারের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। অপর চারজনের জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের খলিফারহাট চৌরাস্তা এলাকায় জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে চরদুয়ানী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সরোয়ার হোসেন ফারুক ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম বেপারী গুরুতর আহত হন। পরে তাঁদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


বিজ্ঞাপন


এ ঘটনায় পরদিন সেলিম বেপারীর স্ত্রী শাহানাজ পারভীন বাদী হয়ে পাথরঘাটা থানায় ৫৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পৌর জামায়াতের আমির বজলুর রহমান ওই মামলার ৫ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি।

এদিকে বরগুনা-২ (বামনা, পাথরঘাটা ও বেতাগী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হলেও প্রশাসনের আশ্বাসের পরও পৌর জামায়াতের আমিরসহ চারজনকে গ্রেফতার করে জামিন নামঞ্জুর করা হয়েছে।

অন্যদিকে একই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম মনিরের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

পাথরঘাটা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহেদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পুলিশ সুপারের নির্দেশে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর