‘৭০ বছর বয়সেও ভিক্ষুক ছকিনার হয়নি ভাতা’ শিরোনামে একটি সংবাদ ঢাকামেইলে প্রকাশিত হয়। এরপর নজরে পড়ে সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মীদের। তারপর ছকিনার খোঁজ নেওয়া শুরু করেন তারা। তাদের কাছেও মিলছে এ সংবাদের সত্যতা। একপর্যায়ে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বৃদ্ধা ছকিনাকে বিধবা ভাতার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সরেজমিনে (১৭ জানুয়ারি) গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইসবপুর (পূর্বপাড়া) গ্রামে গিয়ে ওই ছকিনা বেওয়ার চোখে-মুখে দেখা গেছে-আনন্দের বন্যা। সম্প্রতি কাঙ্ক্ষিত ভাতার টাকা পেয়ে মুখে হাসি ফুটেছে তার।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়রা জানায়, স্বামী মেছের আলীকে অনেক আগে হরিয়েছেন ছকিনা বেওয়া। নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই। যেখানে রাত সেখানেই কাত। পেশা তার ভিক্ষাবৃত্তি। বয়সের ভারে হয়েছেন কুঁজো। নানা রোগে বাসা বেঁধেছে শরীরে। তবুও জীবিকার সন্ধানে নিরন্তর ছুটে চলা। যেন পায়ে তার বাহন। সকাল-সন্ধ্যা ঘুরে বেড়ান অন্যের দুয়ার-দুয়ারে। পাচ্ছিলেন না সরকারের বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতা। এরই মধ্যে গণমাধ্যম কর্মীদের তৎপরতায় ছকিনা এখন আওতাভুক্ত হয়েছেন।
অসহায় ছকিনা বেওয়া বলেন, হামার সোয়ামি মেলা বছর আগে মরছে। হামাঘরে কোনো জমিজিরাত নাইও। মোর একন শরীর চলে না বাবা। তাও বিখ্যাত যাওয়া নাগে। সরকারের ভাতার ট্যাকা পাবার জন্নে চেয়ারম্যান-মেম্বরের কাছে মেলাদিন ঘুরছোম। কেউ মোক ভাতা করি দেয় নাই। তোমরাগুলা মোর ফটো তুলি নেওয়ায় একন অফিসারেরা মোক ভাতার ট্যাকা দিতেছে। ইগলা ট্যাকা দিয়্যা ওষুদ কিনি খামো বাবা।
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ইউনিয়ন সমাজকর্মী শাহ মো. নাজমুল হক বলেন, প্রকাশিত সংবাদ পড়ে ছকিনার ব্যাপারটি জানা গেছে। পরে সমাজসেবা কর্মকর্তা স্যারের নির্দেশে তার খোঁজ নিয়ে ভাতার আওতায় আনা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সাদুল্লাপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মানিক চন্দ্র রায় বলেন, ছকিনা বেওয়া বয়স্ক বা বিধবা ভাতা পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু তিনি ভাতা বঞ্চিত সেটি জানা ছিল না। ঢাকামেইলের সংবাদ নজরে আসলে তারপর আমরা তার খোঁজখবর নিয়ে বিধবা ভাতাভুক্ত করেছি।
প্রতিনিধি/এসএস

