শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

কুষ্টিয়ায় পুকুর দখল নিয়ে মসজিদে ঘোষণা দিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ

জেলা প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া 
প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম

শেয়ার করুন:

কুষ্টিয়ায় পুকুর দখল নিয়ে মসজিদে ঘোষণা দিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) একটি পুকুর দখলকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। 

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ভাড়রা বাজার সংলগ্ন এলাকায় ভাড়রা গ্রাম ও যদুবয়রা ইউনিয়নের উত্তর চাঁদপুর গ্রামের একাংশের বাসিন্দাদের মধ্যে এই সংঘর্ষ ঘটে।


বিজ্ঞাপন


খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোক জড়ো করে এই হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সান্দিয়ারা-লাহিনীপাড়া সড়কের ভাড়রা বাজার সংলগ্ন এলাকায় পাউবোর প্রায় ১২ বিঘা জমির একটি পুকুর রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, এটি একটি ‘সুফলভোগী’ সংগঠনের নামে ভোগদখল করার কথা। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় এমপির ডিও লেটারের মাধ্যমে চাপড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম রাশেদ টোটো পুকুরটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন। তিনি বছরে ৪০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতেন এবং ২০২৭ সাল পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে তার চুক্তি রয়েছে।

৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা পুকুরটি দখলের চেষ্টা শুরু করেন। এর মধ্যেই আওয়ামী লীগ নেতা টোটো পুকুরটি গত বছর ৭ লাখ টাকায় যদুবয়রা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও মহিলা দল নেত্রী সাজেদা খাতুনের কাছে হস্তান্তর করেন। এই হস্তান্তর ও দখল নিয়ে ভাড়রা ও উত্তর চাঁদপুর গ্রামবাসী এবং বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

শুক্রবার দুপুরে যদুবয়রা ইউনিয়ন বিএনপির সার্চ কমিটির সাবেক সদস্য ফারুক হোসেন, বিএনপি কর্মী আসাদ ও মতিয়ারসহ কয়েকজন মোটরসাইকেল নিয়ে পুকুর এলাকায় পৌঁছান। এ সময় ভাড়রা গ্রামের বিএনপির নেতাকর্মী ও গ্রামবাসীরা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেন  ‘সন্ত্রাসীরা পুকুরে মাছ মেরে নিচ্ছে, সবাই আসুন।’


বিজ্ঞাপন


এই ঘোষণার পর শত শত মানুষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করলে প্রতিপক্ষরা একটি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। পরে বিক্ষুব্ধরা মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

চাপড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী এই পুকুর ভাড়রা গ্রামবাসী ভোগ করবে। ৩৩ জনের কমিটি করে এক বছর আগে আমরা পুকুরে প্রায় ১৫ লাখ টাকার মাছ ছেড়েছি। কিন্তু উত্তর চাঁদপুরের ফারুক, আসাদ ও মতিয়ারসহ একদল সন্ত্রাসী জোর করে মাছ ধরতে নেমেছিল। আমরা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে গ্রামবাসী তাদের প্রতিহত করে।’ তবে ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

অভিযুক্ত যদুবয়রা ইউনিয়নের উত্তর চাঁদপুর গ্রামের বিএনপি নেতারা এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলতে রাজি হননি।

আওয়ামী লীগ নেতা এস এম রাশেদ টোটো মোবাইলফোনে জানান, ২০২৭ সাল পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে তার চুক্তি বলবৎ আছে। গত বছর ঝামেলার আশঙ্কায় তিনি সাজেদা মেম্বারের কাছে পুকুরটি হস্তান্তরের চুক্তি করলেও এখন পর্যন্ত কোনো টাকা পাননি।

কুমারখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিরুল ইসলাম জানান, পুকুর নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ সেটি জব্দ করেছে, তবে এখনও মালিকের খোঁজ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/একেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর