শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

নিবন্ধনের ফল প্রকাশের আগেই কলেজের প্রভাষক, ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম

শেয়ার করুন:

নিবন্ধনের ফল প্রকাশের আগেই কলেজের প্রভাষক, ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
কৃষ্ণপুর সরকারি হাজি আলী আকবর কলেজের প্রভাষক ইকবাল হোসেন।

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার, কৃষ্ণপুর সরকারি হাজি আলী আকবর কলেজের প্রভাষক ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধ নিয়োগ ও ভুয়া সনদে ১২ বছর ধরে শিক্ষকতা করার লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। কৃষ্ণপুর এলাকার ফয়সাল তালুকদার নামের এক ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত অভিযোগ ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ইকবাল হোসেন ২০১৩ সালের ৩ নভেম্বর কৃষ্ণপুর সরকারি হাজি আলী আকবর কলেজের ইংরেজি প্রভাষক হিসাবে যোগদান করেন। যোগদানের সময় তিনি তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেন। কিন্তু কলেজে দাখিল করা শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয় ২০১৩ সালের ২০ নভেম্বর। ফলাফল প্রকাশের আগেই তিনি নিবন্ধন সনদ জমা দেওয়ায়, গত ২০১৫ সালের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ইকবাল হোসেনের নিবন্ধন সনদ সঠিক নয় বলে উল্লেখ করেন। সনদ সঠিক না থাকার পরেও তিনি প্রভাব কাটিয়ে নিয়মিত সরকারের সব সুযোগ সুবিধা নিচ্ছেন। ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কৃষ্ণপুর এলাকার ফয়সাল তালুকদার নামের এক ব্যক্তি গত ৮ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এর আগেও ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে কলেজের শিক্ষকরা কর্তৃপক্ষের বরাবর অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।


বিজ্ঞাপন


অভিযোগকারী ফয়সাল তালুকদার বলেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী ইকবাল হোসেন জালিয়াতি করে অবৈধভাবে চাকরি নিয়েছেন। তিনি বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তুফা জব্বার ও তারই ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কিবরিয়া জব্বারের স্বজন পরিচয় দিয়ে কলেজসহ উপজেলায় সব ধরনের অপকর্ম করেছেন। দ্রুত তার বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবেন বলে আমি আশা করছি।

আরও পড়ুন

রাবি ভর্তি পরীক্ষায় মোবাইলসহ পরীক্ষার্থী আটক

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রভাষক ইকবাল হোসেন বলেন, নিয়োগের সময় কলেজ কর্তৃপক্ষ রোল নম্বর লিখতে ভুল করায় অডিট রিপোর্টে এমন সমস্যা উল্লেখ করা হয়। পরে অবশ্য ঠিক করা হয়েছে।

জানতে চাইলে কৃষ্ণপুর সরকারি হাজি আলী আকবর কলেজের অধ্যক্ষ আমিরুল ইসলাম বলেন,‘ ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সেটা ১০/১১ বছর আগের এই ঘটনা। ইকবাল হোসেন প্রথমে যে সার্টিফিকেট জমা দিয়েছিল, সেই সার্টিফিকেটে রোল নম্বর হয়ত ভুল লিখা হয়েছিল। তাই নিরীক্ষা প্রতিবেদনে যে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল, সেটা সংশোধ করা হয়েছে।’


বিজ্ঞাপন


এ ব্যাপারে খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাদির হোসেন শামীম বলেন,‘ অভিযোগের বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রতিনিধি/এসএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর