চুয়াডাঙ্গায় পরকীয়ার অভিযোগে এক যুবক ও নারীর ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। তাদের মাথার চুল কেটে গলায় জুতার মালা পরিয়ে গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকালে পর্যন্ত ঘটনাটি ঘটে। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে দর্শনা থানায় নিয়ে আসে। তবে অভিযুক্তরা এখনও পলাতক রয়েছেন এবং এ পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুন্দিপুর গ্রামের আহমদ আলী ছেলে স্বপন আলী একই গ্রামের একজনের স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। বুধবার রাতে স্বপন আলী পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তার উপস্থিতি ঘরে টের পেয়ে ওই নারীর স্বামী তাদের আটক করেন।
এরপর তাদের রাতভর গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয় এবং গলায় জুতার মালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। ওই নারীর স্বামী ক্ষিপ্ত হয়ে স্বপন আলীর মাথার চুলও কেটে দেন। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
বিষয়টি জেলা পুলিশের নজরে আসার পর দর্শনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নারী ও স্বপন আলীকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
গ্রামবাসী বলেন, জুতার মালা গাছে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন ও চুল কাটা ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। এ ধরনের ঘটনা যেন গ্রামে আর না ঘটে। স্বপন আলীর ক্ষেত্রে অন্যায় করা হয়েছে; যদি সে দোষী হয়, পুলিশ ও আইন ব্যবস্থা নিতে পারত।
চুয়াডাঙ্গা জজ কোর্টের আইনজীবী আহসান আলী বলেন, কেউ অন্যায় করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া উচিত। কাউকে নির্যাতন করা যাবে না।
দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, কোনো অভিযোগ না থাকায় মামলা হয়নি। ছেলে-মেয়ের পরিবারের সদস্যরা থানায় আসলে আইনগত প্রক্রিয়া মেনে তাদেরকে হস্তান্তর করা হবে।
প্রতিনিধি/একেবি

