পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানী উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুর-১ আসন। এক সময় এই আসনের নির্বাচনী ফলাফল নির্ধারিত হতো জোটের গাণিতিক সমীকরণে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সম্মিলিত ভোটব্যাংক ছিল এ আসনে জয়ের মূল চাবিকাঠি। সেই বাস্তবতায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ছিলেন এ অঞ্চলের রাজনীতির প্রধান ‘ফ্যাক্টর’। তবে সময়ের আবর্তে এবার বদলে গেছে দৃশ্যপট; জোটের ছায়া ছাপিয়ে লড়াই এখন একক শক্তিতে।
অতীতের নির্বাচনগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিএনপি এককভাবে নয়, বরং জোটের শক্তির ওপর ভর করেই এ আসনে শক্ত অবস্থানে থাকত। জামায়াতের সুসংগঠিত ভোট, মসজিদকেন্দ্রিক প্রভাব এবং সাঈদীকে ঘিরে থাকা ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে বারবার জয় ছিনিয়ে এনেছে জোট। স্থানীয়ভাবে সাঈদীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার পাশাপাশি দলীয় কাঠামোর শক্ত ভিত ছিল নির্বাচনের মূল চালিকাশক্তি।
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা, আইনি জটিলতা এবং সাংগঠনিক চাপের কারণে জামায়াতের সেই প্রথাগত ভোটব্যাংক এখন কতটা অটুট, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা। তবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পিরোজপুরে জামায়াতের প্রকাশ্য তৎপরতা বেড়েছে। বড় জনসভার চেয়ে ঘরোয়া কর্মী সভার মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা অর্জনে তারা বেশি মনোযোগী। এই প্রেক্ষাপটে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পুত্রের প্রার্থী হওয়া নতুন করে আবেগ তৈরি করলেও, সংগঠনহীন ব্যক্তিগত ইমেজ ভোটে কতটা রূপান্তর হবে তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
অন্যদিকে, বিএনপি এবার জোটের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের একক সাংগঠনিক শক্তি পুনরুদ্ধারে মরিয়া। মাঠপর্যায়ে দলীয় ভোট ধরে রাখা এবং নতুন ভোটারদের আকৃষ্ট করাই তাদের প্রধান কৌশল। ফলে এক সময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র বিএনপি ও জামায়াত এখন একে অপরের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নেমেছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এখনকার ভোটাররা ব্যক্তি ইমেজের চেয়ে দল ও প্রতীকের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
নতুন বনাম পুরোনো সমীকরণ পিরোজপুর-১ আসনে এখন আর আগের মতো জোটের জোয়ার নেই। ইতিহাসের এক বিশাল ভার থাকলেও বর্তমান রাজনীতি দাঁড়িয়ে আছে নতুন এক বাস্তবতার ওপর। একদিকে সাঈদী পরিবারের উত্তরাধিকার ও ধর্মীয় আবেগ, অন্যদিকে বিএনপির সুসংগঠিত রাজনৈতিক শক্তি এই দুই মেরুর লড়াই এখন পিরোজপুরের প্রধান আলোচনার বিষয়।
সব মিলিয়ে, পিরোজপুরের এই লড়াই কেবল দুই প্রার্থীর নয়; বরং এটি পুরোনো জোটের রাজনীতি বনাম পরিবর্তিত সময়ের নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের এক বড় পরীক্ষা। শেষ পর্যন্ত সাঈদীর ইমেজ জয়ী হবে নাকি বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি তা দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই জনপদের সাধারণ ভোটাররা।
বিজ্ঞাপন
প্রতিনিধি/একেবি

