সিরাজগঞ্জে ঘন কুয়াশা ও হাড়কাঁপানো কনকনে ঠান্ডায় জবুথবু হয়ে পড়েছে যমুনা পাড়ের জনজীবন। তীব্র শীত থেকে রেহাই পেতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ পুরনো গরম কাপড় কিনতে হকার্স মার্কেটসহ ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে ভিড় করছেন। এতে শহরের স্থায়ী ও অস্থায়ী বাজারগুলোতে বেচাকেনা জমে উঠেছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর দাম কিছুটা বেশি হলেও তা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে বলে জানা গেছে।
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার বেচাকেনা বেশ ভালো। চলতি মৌসুমে জেলায় শীতবস্ত্র বিক্রির পরিমাণ ৬ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জ পৌর হকার্স মার্কেট ও ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতারা নিজেদের পছন্দমতো যাচাই-বাছাই করে গরম কাপড় কিনছেন। এসব দোকানে তরুণ ক্রেতাদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভিড় করছেন।
ক্রেতাদের মতে, শীতের শুরুতে কেনা হালকা পোশাকে বর্তমান তীব্রতা ঠেকানো যাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে ভারী পোশাক কিনতে হচ্ছে। তবে এই সুযোগে বিক্রেতারাও দাম কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছেন। সপ্তাহ দুয়েক আগেও যে পোশাক ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তার দাম বেড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা হয়েছে।
হকার্স মার্কেটে কাপড় কিনতে আসা হায়দার শেখ ও মনজুর হোসেন সাগর বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে কনকনে ঠান্ডায় ছেলেমেয়েদের জন্য পোশাক কিনতে এসেছি। গত সপ্তাহে যে পোশাক ৩০০ টাকা ছিল, আজ তা ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। পরে দামাদামি করে ৪৫০ টাকায় নিয়েছি।’

বিজ্ঞাপন
এস.এস রোডের ফুটপাত থেকে কাপড় কেনা রিকশাচালক আলমগীর কবির বলেন, ‘বড় মার্কেটে কাপড়ের অনেক দাম। হকার্স মার্কেটে সাশ্রয়ী দামে বিদেশি পোশাক পাওয়া যায় শুনে এখানে এসেছি। ১ হাজার টাকায় নিজের ও পরিবারের সবার জন্য শীতের কাপড় কিনতে পেরেছি।’
পৌর হকার্স মার্কেটের বিক্রেতা সিদ্দিক আলী জানান, তারা সব বয়সী মানুষের জন্য সোয়েটার ও জ্যাকেট বিক্রি করেন। কম দামে ক্রেতাদের হাতে ভালো মানের পোশাক তুলে দিতে পেরে তারা খুশি।
আরেক বিক্রেতা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘তরুণদের জ্যাকেট সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। বাজারে যেসব নতুন জ্যাকেট ৪-৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়, আমরা সেই মানের পুরনো জ্যাকেট ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি করি। এগুলো চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়, যা মূলত কোরিয়া, জাপান ও তাইওয়ান থেকে দেশে আসে।’
পাইকারি ব্যবসায়ী বাবলু শেখ জানান, সারা বছর ব্যবসা চললেও শীতকালে বিক্রি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তবে উচ্ছেদ আতঙ্ক ও স্থায়ী জায়গার অভাবে তারা কিছুটা ঝুঁকিতে থাকেন। হকার্স মার্কেটটি পুরোদমে চালু হলে ব্যবসার আরও প্রসার ঘটবে বলে তিনি মনে করেন।
সিরাজগঞ্জ পৌর হকার্স মার্কেট মালিক সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দিন জানান, সমিতির আওতায় ১৫০ জন সদস্য পুরনো পোশাক বিক্রির সঙ্গে জড়িত। চলতি মৌসুমে তারা প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল বাছেত বলেন, ‘চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ২৬ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আরও বরাদ্দের জন্য আবেদন করা হয়েছে, যা পেলে দ্রুত বিতরণ করা হবে।’

সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমিন বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় শীতজনিত রোগ যেমন সর্দি-কাশি, হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টের প্রকোপ বাড়ছে। শিশু ও বৃদ্ধদের এই সময়ে বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন।’
প্রতিনিধি/একেবি

