মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

মেহেরপুরে টেন্ডার ছাড়াই আড়াই কোটির কাজ, প্রকৌশলী অভিযুক্ত

তোফায়েল হোসেন, মেহেরপুর 
প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম

শেয়ার করুন:

মেহেরপুরে টেন্ডার ছাড়াই আড়াই কোটির কাজ, প্রকৌশলী অভিযুক্ত

মেহেরপুর গণপূর্ত অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল হাসানের বিরুদ্ধে টেন্ডার ছাড়াই স্বেচ্ছাচারিতার ভিত্তিতে বিভিন্ন সরকারি দফতরের কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে তিনি এসব কাজ বাস্তবায়ন করছেন বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

গণপূর্ত অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, আনুমানিক আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে অন্তত ১৯টি প্রকল্প টেন্ডার ছাড়াই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গণপূর্ত অধিদফতরের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন দপ্তরে কয়েকটি প্রকল্পে নামমাত্র কাজ শুরু হলেও কিছু কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। অথচ সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রধানরা এসব কাজের প্রকৃত বিবরণ কিংবা কোনো অনুমোদিত প্রাক্কলন (এস্টিমেট) সম্পর্কে অবগত নন। অনেক ক্ষেত্রেই কাজের এস্টিমেট চাওয়া হলেও তা পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, যেসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসব কাজ পেয়েছে তারা বিশেষ সুবিধা দিয়ে টেন্ডার ছাড়াই কাজের সুযোগ পেয়েছে। এতে নিয়ম মেনে কাজ করা সাধারণ ঠিকাদাররা বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও দাবি তাদের।


বিজ্ঞাপন


টেন্ডারবিহীন যেসব কাজের অভিযোগ উঠেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মেহেরপুর সদর থানা ভবনের ২টি কোয়ার্টার সংস্কার (প্রায় ১০ লাখ টাকা), সদর থানার নতুন ব্যারাক ভবন নির্মাণ (প্রায় ৬০ লাখ টাকা), জেলা রেজিস্ট্রি অফিস মেরামত ও ই/এম কাজ (প্রায় ২ লাখ টাকা), এসপি অফিস সংস্কার (প্রায় ৫ লাখ টাকা), সদর হাসপাতালের টয়লেট ও কিচেন টাইলসের কাজ (প্রায় ১৫ লাখ টাকা), সদর হাসপাতালের কোয়ার্টারের সিভিল ও ই/এম মেরামত (প্রায় ৬ লাখ টাকা), টিটিসি’র ই/এম ও সাব-স্টেশন মেরামত (প্রায় ৪ লাখ টাকা), পুলিশ সুপারের বাসভবন সংস্কার (প্রায় ৩৫ লাখ টাকা), সিভিল সার্জনের বাসভবন ও অফিস ভবনের মেরামত (প্রায় ৮ লাখ টাকা), সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের মেরামত ও রং (প্রায় ২০ লাখ টাকা), জেলা জজ আদালতের বিভিন্ন কক্ষ সংস্কার (প্রায় ৪৫ লাখ টাকা), জেলা কারাগারের সিভিল ও ই/এম মেরামতসহ সাবমারসিবল পাম্প স্থাপন (প্রায় ৭ লাখ টাকা), ডিসির বাসভবন সংস্কার ও ই/এম কাজ (প্রায় ১৪ লাখ টাকা), মুজিবনগর প্রশাসনিক ভবন ও রেস্ট হাউজ সংস্কার, গণপূর্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসভবন সংস্কার ও মিনি পার্ক নির্মাণ, জেলা জজের বাসভবনের সংস্কার ও ই/এম কাজ এবং টিটিসি ভবনের সিভিল ও ই/এম সংস্কার কাজ।

এ বিষয়ে জেলা গণপূর্ত নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল হাসান বলেন, ‘টেন্ডার করা হয়নি এটা সত্য। তবে জরুরি প্রয়োজনে কাজগুলো করা হচ্ছে।’ সাংবাদিকের প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, টেন্ডার ছাড়া কাজ করার ক্ষমতা তার নেই এবং বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। অন্যদিকে গণপূর্ত অধিদফতরের যশোর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফজলুল হক জানান, ‘টেন্ডার ছাড়াই প্রায় ১৯টি প্রকল্পের কাজ চলমান এ বিষয়ে আমি অবগত নই। টেন্ডার ছাড়া কাজ করার এখতিয়ার তার নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’ 

এ ঘটনায় সরকারি অর্থের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহল দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

প্রতিনিধি/একেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর