সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

মিয়ানমারের সংঘাতে বিপর্যস্ত টেকনাফ, সীমান্ত আতঙ্কে কর্মহীন কৃষক-জেলে

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার
প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম

শেয়ার করুন:

মিয়ানমারের সংঘাতে বিপর্যস্ত টেকনাফ, সীমান্ত আতঙ্কে কর্মহীন কৃষক-জেলে

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সশস্ত্র সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে। এতে করে সীমান্ত এলাকার মানুষের জীবন ও জীবিকা চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। আতঙ্কে কৃষি জমি, মৎস্য ঘের কিংবা নাফ নদীতে মাছ শিকারে যেতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। সীমান্তবাসীর একটাই প্রশ্ন— এই অনিশ্চয়তা আর আতঙ্ক থেকে কবে মুক্তি মিলবে।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা টেকনাফ উপজেলার লম্বারবিল এলাকা একসময় ভোর হলেই কৃষক ও জেলেদের কর্মচাঞ্চল্যে মুখর থাকত। মাঠে চাষাবাদ, মৎস্য ঘেরে শ্রম আর নদীতে মাছ শিকারে ব্যস্ত থাকতেন শত শত মানুষ।


বিজ্ঞাপন


কিন্তু এখন সেই লম্বারবিল যেন জনশূন্য। মাঠে নেই কৃষক, ঘেরে নেই শ্রমিক, নদীতেও নেই জেলেদের আনাগোনা। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘাতের কারণে পুরো এলাকা এখন থমথমে ও আতঙ্কগ্রস্ত।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মিয়ানমারের ভেতরে গোলাগুলি ও গোলাবর্ষণ শুরু হলেই অনেক সময় গুলি ও মর্টারের গোলা এসে পড়ছে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে। এতে করে সীমান্তবর্তী গ্রামের মানুষ প্রতিনিয়ত মৃত্যুভয়ে দিন কাটাচ্ছেন। বন্ধ হয়ে গেছে স্বাভাবিক কাজকর্ম, মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিশুদের শিক্ষাজীবন।

টেকনাফ সীমান্তের বাসিন্দা ফয়েজ আহমেদ বলেন, মিয়ানমারের গোলাগুলির ভয়ে জমিতে যেতে পারছি না। নাফ নদীতেও মাছ ধরতে নামা ঝুঁকিপূর্ণ। এভাবে চলতে থাকলে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, ঘর থেকে বের হতেও ভয় লাগে। যেভাবে গোলাগুলি হচ্ছে, মনে হয় যে কোনো সময় গুলি এসে শরীরে লাগতে পারে।


বিজ্ঞাপন


thumbnail_1000263125

স্থানীয় মানিক মিয়া জানান, গোলাগুলির শব্দে আতঙ্কে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছি। বাচ্চাদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা ভীষণ দুশ্চিন্তায় আছি।

স্থানীয়দের দাবি, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রায় দুই বছর ধরে সংঘাত চলমান। মাঝে কিছুদিন পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও পুনরায় গোলাগুলি শুরু হয়। এর ফলে টেকনাফ সীমান্তের অন্তত তিনটি ইউনিয়নের হাজারো মানুষ চরম ঝুঁকির মধ্যে জীবনযাপন করছেন।

স্থানীয় সমাজকর্মী আরিফ হোসাইন বলেন, এই সীমান্ত এলাকায় অসংখ্য চিংড়ি ঘের, চাষাবাদের জমি ও লবণের মাঠ রয়েছে কিন্তু মিয়ানমারের গোলাগুলির কারণে সেখানে যাওয়া যাচ্ছে না। রোহিঙ্গা সংকট, জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘাতে সীমান্তবাসীর জীবন আজ অনিশ্চিত।

thumbnail_1000263127

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘাতের জেরে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদারের পাশাপাশি আধুনিক ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সীমান্ত সড়ক ও বেড়িবাঁধ এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।

বিজিবির রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে এবং সীমান্তবাসীদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। আমরা আশা করছি পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকালে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৫৩ সদস্য আটক

গত রোববার (১১ জানুয়ারি) মিয়ানমারে আরাকান আর্মির হামলায় টিকতে না পেরে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৫৩ সদস্যকে আটক করেছে বিজিবি। আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ও নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন সীমান্তবাসীদের অপ্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

সীমান্তের ওপারের সংঘাত কবে থামবে— তা অনিশ্চিত। তবে আতঙ্কের এই পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর কূটনৈতিক ও মানবিক উদ্যোগের দাবি জানাচ্ছেন টেকনাফের সীমান্তবাসীরা।

প্রতিনিধি/এসএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর