‘আতা গাছে তোতা পাখি, ডালিম গাছে মৌ, জীবন আমার ধন্য হলো হয়ে বাংলাদেশি বউ’ এমন একটি কন্টেন্টে নিজের মনের অনুভূতি জানিয়েছেন ফরাসি পুত্রবধূ সিনথিয়া ইসলাম। শৈশব থেকে মায়ের ভালোবাসা না পেলেও শাশুড়ির মমতায় মুগ্ধ সিনথিয়া বারবার ছুটে আসতে চান শ্বশুরবাড়ি লক্ষ্মীপুরে। স্বামী আরিফুল ইসলাম রাসেলের সঙ্গে মিলে তিনি ‘রাসেল এন্ড সিনথিয়া’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করছেন, যেখানে তারা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে তুলে ধরছেন। মাত্র ১ বছর ৯ মাসে পেজটি ২.১ মিলিয়নের বেশি ফলোয়ারের ভালোবাসা পেয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে খ্রিষ্টধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করার পর লক্ষ্মীপুরের রাসেলের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সিনথিয়া। ধর্মান্তরিত হওয়ার আগে তার নাম ছিল অম। বর্তমানে এই দম্পতির আমেনা ইসলাম (৬) ও আলিফ ইসলাম (৪) নামে দুটি সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি সপরিবারে লক্ষ্মীপুর ভ্রমণে এসে তারা মেঘনা নদীর উপকূলসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে গ্রামীণ পরিবেশ উপভোগ করেছেন এবং কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতও ঘুরে দেখেছেন।
বিজ্ঞাপন
আরিফুল ইসলাম লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার রাজিবপুর এলাকার মৃত তাজুল ইসলামের ছেলে এবং সিনথিয়া ফ্রান্সের লারোসাল শহরের পচিচ জুবের মেয়ে। ২০১১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য ইংল্যান্ডে যান রাসেল এবং ২০১৩ সালে ফ্রান্সে পাড়ি জমান। সেখানেই সিনথিয়ার সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেম। শুরুতে ভাষা জটিলতার কারণে রাসেলকে গুগল ট্রান্সলেটের সাহায্য নিতে হলেও ধীরে ধীরে তারা একে অপরের ভাষা আয়ত্ত করেন। রাসেলের দাবি, সিনথিয়ার এক বান্ধবীকে পছন্দ করতে গিয়ে সিনথিয়ার হাসিতেই তিনি মুগ্ধ হন এবং পরে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়।
বিয়ের সময় সিনথিয়ার বাবা প্রথমে রাজি না থাকলেও ১৮ বছর বয়সে নিজের স্বাধীন সিদ্ধান্তে তিনি বাংলাদেশে আসেন এবং ইসলামি রীতিতে বিয়ে করেন। এ নিয়ে তিনি পাঁচবার শ্বশুরবাড়ি এসেছেন। রাসেলের মতে, সিনথিয়া অত্যন্ত বিশ্বাসী ও মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন একজন নারী। আগে চাকরি করলেও বর্তমানে সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি পূর্ণাঙ্গ গৃহিণী হিসেবে সংসার সামলাচ্ছেন। রাসেলের পরিকল্পনা রয়েছে ভবিষ্যতে ছয় মাস বাংলাদেশে এবং ছয় মাস ফ্রান্সে থাকার, যেন সন্তানরা দুই দেশের সংস্কৃতিই শিখতে পারে।
আঞ্চলিক ভাষায় কন্টেন্ট তৈরির বিষয়ে রাসেল বলেন, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও ফেনী মূলত একই জনপদ। নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষা সারা বিশ্বে পরিচিত বলেই তারা এই ভাষায় কথা বলে দেশের মানুষকে আনন্দ দিতে চান। সিনথিয়া মূলত ছোটবেলায় মা-বাবার বিচ্ছেদের কারণে মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত ছিলেন, যা তিনি তার শাশুড়ির কাছ থেকে পাচ্ছেন। ফরাসি ভাষায় সিনথিয়া জানান, বাংলাদেশের পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিকতা তাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে। ভাঙা ভাঙা বাংলায় তিনি তৃপ্তির সঙ্গে বলেন, ‘আমার দেশ বাংলাদেশ’।
প্রতিনিধি/একেবি

