রোববার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

আর্থিক সংকটে থমকে গেছে নীলফামারীর ক্ষুদে বিজ্ঞানীর স্বপ্ন

রাশেদ ইসলাম, নীলফামারী
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম

শেয়ার করুন:

আর্থিক সংকটে থমকে গেছে নীলফামারীর ক্ষুদে বিজ্ঞানীর স্বপ্ন
দশম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী দেব সারথী তীর্থ । ছবি: ঢাকা মেেইল

ড্রোন, রকেট ও মিসাইল প্রযুক্তি নিয়ে উদ্ভাবনী গবেষণায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়মিত সম্ভাবনার জানান দিচ্ছে নীলফামারীর এক ক্ষুদে বিজ্ঞানী। কিন্তু চরম অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বর্তমানে থমকে গেছে তার গবেষণা ও আগামীর অগ্রযাত্রা।

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ব্র্যাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী দেব সারথী তীর্থ বর্তমানে ড্রোন, রকেট ও মিসাইল প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। করোনাকালীন অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ শেখার মধ্য দিয়ে তার এই স্বপ্নযাত্রার শুরু। সেই শুরুটাই আজ তাকে পৌঁছে দিয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্ল্যাটফর্মে।


বিজ্ঞাপন


বাস্তবভিত্তিক একাধিক ক্ষুদ্র প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি তীর্থ নির্মাণ করেছে একটি অত্যাধুনিক মাল্টি-ফাংশনাল ড্রোন। এই ড্রোনটিতে রয়েছে নজরদারি, অবজেক্ট ট্র্যাকিং ও স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশনসহ মিলিটারি গ্রেড অপারেশনের উপযোগী বিভিন্ন অত্যাধুনিক ফিচার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেন্সর ব্যবহার করে ড্রোনটি নির্দিষ্ট এলাকা স্ক্যান করতে এবং তাৎক্ষণিক তথ্য বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম।

ড্রোনের সাফল্যের পর বর্তমানে তীর্থর গবেষণার মূল কেন্দ্রবিন্দু রকেট ও মিসাইল সিস্টেম। সে জানায়, তার উদ্ভাবিত মিসাইল সিস্টেমে সংযোজন করা হয়েছে: অবজেক্ট ডিটেকশন অ্যালগরিদম; লো-রাডার সিগনেচার ডিজাইন; এভেসিভ ম্যানুভারিং টেকনিক (যা শত্রুপক্ষের পাল্টা মিসাইল আক্রমণ এড়াতে সক্ষম)। 

ভবিষ্যতে পানির নিচে নজরদারি ও কৌশলগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করতে সাবমেরিন প্রযুক্তি নিয়েও গবেষণার রূপরেখা তৈরি করছে এই কিশোর।

তীর্থর বাবা তাপস কুমার দাস ও মা সঞ্চীতা সাহা জানান, ছেলের উদ্ভাবনী মেধার স্বীকৃতি মিলেছে জাতীয় পর্যায়ে। সে একাধিকবার স্বর্ণপদক অর্জন করেছে। সম্প্রতি রকেট ও মিসাইল গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ইন্দোনেশিয়া থেকে আমন্ত্রণ পেয়েছে সে। কিন্তু অভাবের সংসারে এই খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এর আগেও মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেও স্রেফ অর্থাভাবে সেবারও যাওয়া সম্ভব হয়নি।


বিজ্ঞাপন


এবার ইন্দোনেশিয়ার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সব প্রস্তুতি থাকলেও শেষ পর্যন্ত আর্থিক সংকটে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তার এই বিদেশ যাত্রা ও উচ্চতর গবেষণা।

জলঢাকা ব্র্যাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিন্দ্র নাথ রায় আক্ষেপ করে বলেন, ‘তীর্থ এমন একজন কিশোর, যার হাতে লুকিয়ে আছে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির বিপুল সম্ভাবনা। তার মেধা দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। আজ তার প্রয়োজন শুধু উপযুক্ত সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা।’

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে সহযোগিতা পেলে দেব সারথী তীর্থর মতো প্রতিভাবান শিক্ষার্থীরা দেশের প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতে এক যুগান্তকারী অবদান রাখতে সক্ষম হবে। অর্থাভাব যেন এই মেধাবীর স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, এটাই এখন সকলের কাম্য।

প্রতিনিধি/একেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর