পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, সারাদেশে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সেই অভিযানে শত শত না হলেও দুই একটি করে ধরা হচ্ছে। এগুলো পুলিশের হারিয়ে যাওয়া অস্ত্র। তার বাইরে অনেক অবৈধ অস্ত্র আসছে। সেগুলো ধরা হচ্ছে। অনেক দেশি বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে। তবে স্বল্প সময়ে সব উদ্ধার করা সম্ভব নয়।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলার বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ অফিসার ও সদস্যদের সঙ্গে একটি বিশেষ কল্যাণ সভায় অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, সারাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ২৪ হাজার। আগামী নির্বাচনে সহিংসতা এড়াতে এবং সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা না হয়, এজন্য ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের বডিঅন ক্যামেরা দেওয়া হবে। যা দিয়ে সবকিছু তদারকি করা সম্ভব হবে। এসময় আইজিপি পুলিশের কাজে সবাইকে সহযোগিতার জন্য অনুরোধ জানান।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ নতুন করে কাজ করছে। এখন পুলিশকে সহযোগিতা করা দরকার। পুলিশের মনোবল চাঙ্গা রাখা দরকার। সেটা না করে কাউকে গ্রেফতার করলে পুলিশের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও থানা ঘেরাও করা হয়, তাহলে তো পুলিশের মনোবল নষ্ট হবে। আইনগত কাজে বাধা দেওয়া যাবে না। বাধাহীনভাবে পুলিশ কাজ করতে না পারলে এবং সমাজের সম্পন্ন সমর্থন না পেলে নির্বাচন করা সম্ভব নয়। কেননা পুলিশের ভেতর কোনো ভয় থাকলে তো কাজ করা সম্ভব হবে না। তাই আমাদের সবারই উচিত পুলিশকে সহযোগিতা করা।

বিজ্ঞাপন
আইজিপি আরও বলেন, বিগত সময়ে ১৫ বছরে পুলিশ একটি দলের বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠেছিল, তারা অনেক গণবিরোধী কাজ করেছে। লোভী ও দলকানা পুলিশ জুলাই-আগস্টের কর্মকাণ্ড সংগঠিত করেছে। পরবর্তীতে সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে দেশের জন্য ও মানুষের জন্য কাজ করছে। দেশের ও নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের রাখার জন্য পুলিশ সদা প্রস্তুত। আপনারা জেনে খুশি হবেন যে, আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরাপত্তার সঙ্গে অনুষ্ঠানের জন্য রংপুর বিভাগের সব পুলিশ ও পুলিশ কর্মকর্তা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তা ছাড়া আগামী নির্বাচনে প্রশিক্ষিত ১ লাখ ৫০ হাজার পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, নৌ ও নেভির সঙ্গে ৬০ হাজার আনসার থাকবে।
তিনি বলেন, দেশের অনেক স্থানে নানান ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে ওসমান হাদির ঘটনা, মাজারে যাওয়ার সময় হামলা, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাসহ নানান ঘটনা ঘটেছে। সেই ঘটনার পর মামলা হয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন পরবর্তী মামলায় অনেক নাম দেওয়া হয়েছে। সেই মামলাগুলোর সঙ্গে যারা জড়িত ছিল না, তাদের মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বাহারুল আলম, বিপিএম, রংপুর বিভাগে কর্মরত পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে বিশেষ মতবিনিময় ও নির্বাচনি প্রশিক্ষণ পরিদর্শনের জন্য একদিনের সফরে আসেন। তিনি রংপুর জেলা পুলিশ লাইনস্ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, অডিটরিয়ামে বিভাগে কর্মরত বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের অফিসার ও ফোর্সের সঙ্গে বিশেষ কল্যাণ সভায় যোগ দেন। সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে সার্বিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় ও প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন। এরপর তিনি পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ পরিদর্শন করেন।
প্রতিনিধি/এসএস

