‘সবাই সহযোগিতা পেলেও আমাদের দিকে কেউ তাকায় না বাবা। যা পাই, তাই দিয়ে রাত-দিন পার করতে হয়। গরমের সময় কষ্ট একটু কম হলেও শীতে খুব কষ্ট হয়। গত কয়েকদিনের শীতে আমাদের জীবন যায় যায় অবস্থা।’ এভাবেই নিজের কষ্টের কথাগুলো বলছিলেন সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে আশ্রয় নেওয়া ছিন্নমূল বৃদ্ধ বক্কর আলী।
শুধু বক্কর আলী নন, তার মতো আরও প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন ছিন্নমূল মানুষ সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শীত নিবারণের জন্য পর্যাপ্ত কম্বল বা গরম কাপড় না থাকায় তাদের ভোগান্তি এখন চরমে।
বিজ্ঞাপন
স্টেশনে থাকা অজিফা বেগম কাঁপতে কাঁপতে আক্ষেপ করে বলেন, ‘বাবারে, এই শীতে বেঁচে থাকা খুব মুশকিল। গায়ে দেওয়ার মতো একটা ভালো কম্বলও নেই। সারারাত কাঁপতে কাঁপতে চোখে ঘুম আসে না, কেউ আমাদের খোঁজ নেয় না।’
চিলাহাটি থেকে আসা যাত্রী রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমি প্রায়ই ট্রেনে যাতায়াত করি। প্রতিদিন সকালে দেখি এই মানুষগুলো স্টেশনে শুয়ে আছেন। গায়ে বড়জোর একটি বা দুটি ছেঁড়া কম্বল। সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা পেলে অন্তত এই শীতের রাতগুলোতে তারা শান্তিতে ঘুমাতে পারতেন।’
শরীফ মাহমুদ নামে অন্য এক যাত্রী বলেন, ‘এই মানুষগুলো রোদ-বৃষ্টি সব সময় স্টেশনেই কাটায়। আমি দীর্ঘদিন ধরে তাদের এখানেই দেখছি। বর্তমান তীব্র শীতে তাদের অবস্থা খুবই শোচনীয়। আমরা ঘরের ভেতরে থেকেও যেখানে শীত সামলাতে পারছি না, সেখানে তারা খোলা আকাশের নিচে সামান্য ছেঁড়া কাঁথা বা কম্বল দিয়ে কীভাবে রাত পার করছে, তা ভাবলে কষ্ট হয়।’
স্টেশনের বেঞ্চ, প্ল্যাটফর্ম ও আশপাশের খোলা জায়গাই এই অসহায় মানুষগুলোর একমাত্র আশ্রয়। কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা বা পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা না থাকায় তীব্র শীতে তাদের জীবন এখন ঝুঁকির মুখে।
বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর রেলওয়ে স্টেশনের ছিন্নমূল মানুষদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু করি। তবে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ আসছে যে, শীতবস্ত্র পাওয়ার পর অনেকেই তা বিক্রি করে দিচ্ছেন। তাদের ইতোমধ্যে দুইবার বস্ত্র দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আমাদের শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম বিভিন্ন এলাকায় চলমান রয়েছে।’
প্রতিনিধি/একেবি

