রোববার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

বাড়ছে বিমান ওঠানামার ঝুঁকি, শঙ্কায় যাত্রী ও এয়ারলাইন্স

কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে কুকুরের অবাধ বিচরণ

তাহজীবুল আনাম, কক্সবাজার
প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৫১ পিএম

শেয়ার করুন:

কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে কুকুরের অবাধ বিচরণ

পর্যটন নগরী কক্সবাজারের একমাত্র আকাশপথ কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণ এখন গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। গত পাঁচ মাসে উড্ডয়নের ঠিক আগমুহূর্তে অন্তত দুটি বিমানের সঙ্গে কুকুরের ধাক্কা লাগার ঘটনা ঘটেছে।

পাইলটদের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হলেও যাত্রী ও এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে ভয়াবহ বিপর্যয়।


বিজ্ঞাপন


তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২ আগস্ট ও ৬ নভেম্বর কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে উড্ডয়নের প্রস্তুতিকালে যাত্রীবাহী বিমানের সঙ্গে কুকুরের ধাক্কা লাগে। এসব ঘটনায় দুটি কুকুর মারা যায় এবং বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ জানুয়ারি কক্সবাজার বিমানবন্দরে প্রথমবারের মতো একটি বিশেষ নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। মহড়াটি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর চেয়ারম্যান। তবে মহড়া চলাকালেই এক উদ্বেগজনক চিত্র উঠে আসে—রানওয়ে ও আশপাশের এলাকায় কুকুরের অবাধ বিচরণ। এমনকি ওই সময় রানওয়ে ব্যবহার করে একটি যাত্রীবাহী বিমান উড্ডয়ন করলেও কুকুরগুলো সরাতে কার্যকর কোনো তাৎক্ষণিক উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো সমাধান আসেনি।

কক্সবাজারে কর্মরত নভোএয়ার-এর স্টেশন ইনচার্জ মো. সরওয়ার-উল-কাদের বলেন, ‘নিরাপত্তার দিক থেকে বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আমরা একাধিকবার সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেছি। আমাদের জানানো হয়েছে বিমানবন্দর ও রানওয়ে এখনো নির্মাণাধীন। রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করা হচ্ছে। বর্ধিতকরণ ও পূর্ণাঙ্গ সীমানা প্রাচীর (বাউন্ডারি) নির্মাণ শেষ হলে ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে। ততদিন আমাদের অপেক্ষা করতে বলা হয়েছেন। 


বিজ্ঞাপন


অন্যদিকে, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের কক্সবাজার স্টেশন ইনচার্জ আহমদ মুসা বলেন, ‘এয়ারক্রাফটের নিরাপত্তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের বিষয় নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। তাই বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি।’

এ রুটে নিয়মিত চলাচলকারী যাত্রী ও পর্যটকরাও চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক মানের একটি বিমানবন্দরের ভেতরে বেওয়ারিশ কুকুর ঢুকে পড়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঢাকাগামী যাত্রী মিজানুর রহমান বলেন, ‘রানওয়েতে কোনো প্রাণী ঢুকে পড়লে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এটি সরাসরি কর্তৃপক্ষের তদারকির ঘাটতির প্রমাণ।’ আরেক যাত্রী জসিম উদ্দিনও একই শঙ্কা প্রকাশ করে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল বলেন, ‘এটি একটি মৌলিক নিরাপত্তা ইস্যু। পেরিমিটারের (সীমানা) ভেতরে কুকুর বা অন্য কোনো প্রাণী প্রবেশ করলে ফ্লাইট সেফটির জন্য বড় হুমকি তৈরি হয়। আমরা জনবল নিয়োজিত করেছি এবং বার্ড হ্যাজার্ডসহ ওয়াইল্ডলাইফ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তবে কিছু এলাকায় এখনো সীমানা প্রাচীর নির্মাণাধীন রয়েছে।’

dog

তিনি আরও জানান, বিষয়টি চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ ও পূর্ণাঙ্গ পেরিমিটার সিকিউরিটি সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা আর থাকবে না।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সামান্য অবহেলাও অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত বিকল্প ও তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

প্রতিনিধি/একেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর