আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে লড়ছেন বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। নিজেদের ভোটের মাঠে বিজয়ী হতে নিচ্ছেন নানা কলা কৌশল। এর মধ্যে গাজীপুর-২ ও গাজীপুর-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির সাবেক দুই হেভিওয়েট নেতার দুই ছেলে। দীর্ঘ দিন ধরে আসন দুটি আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও ছাত্রজনতার গণ অভ্যুত্থানের পর এখন আসন দুটি পুনঃ উদ্ধার করতে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তারা। তারা পিতার উত্তরসূরি হলেও নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক দক্ষতায় দলে তাদের অবস্থান সুসংহত করেছেন। এলাকায়ও তাদের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা।
গাজীপুর-২ (গাজীপুর সদর, টঙ্গী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী, বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নানের ছেলে এম মঞ্জুরুল করিম রনি। অধ্যাপক এমএ মান্নান ১৯৯১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এম মঞ্জুরুল করিম রনি গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
বিজ্ঞাপন
গাজীপুর-২ আসনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, অধ্যাপক এমএ মান্নান ছিলেন একজন উন্নয়নের রুপকার। তিনি প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে এলাকায় স্কুল, কলেজ নির্মাণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে বিপুল ভোটের ব্যবধানে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। কিন্তু পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের রোষানলে পড়ে তিনি তার দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকার হয়ে তিনি মারা যান। তার অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে এই আসনে তার ছেলে এম মঞ্জুরুল করিম রনির বিকল্প নেই। তার বাবার উন্নয়নের ধারা তিনি অব্যাহত রাখতে পারবেন বলে এলাকাবাসী মনে করেন।
গাজীপুর-২ আসনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপির এম মঞ্জুরুল করিম রনি, জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ হোসেন আলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হানিফ সরকার, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. জিয়াউল কবির, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর মাসুদ রেজা, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের সরকার তাসলিমা আফরোজ, জাতীয় পার্টির মো. মাহবুব আলম, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পাটি)-এর আব্বাস ইসলাম খান, জাতীয় নাগরিক পার্টির আলী নাছের খান এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর মো. আব্দুল কাইয়ুম।
অন্যদিকে, গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আসম হান্নান শাহর ছেলে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ রিয়াজুল হান্নান। আসম হান্নান শাহ মন্ত্রী থাকাকালে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তাছাড়া তিনি ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দলের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। গাজীপুরে বিএনপির শক্ত অবস্থান গড়ে তোলার জন্য হান্নান শাহ, অধ্যাপক এমএ মান্নানের অবদান অনেক।
কাপাসিয়ার স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, শাহ রিয়াজুল হান্নান তার পিতার মতোই কর্মীবান্ধব, এলাকার মানুষের কাছে প্রিয় এবং নিজ কর্মদক্ষতায় রাজনীতিতে এগিয়ে আছেন। আগামী নির্বাচনে তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করবেন বলে আশা করি।
বিজ্ঞাপন
৩ লাখ ৩০ হাজার ৯৭৭ জন ভোটার সংখ্যার এ আসনে ৯ প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বৈধ প্রার্থী রয়েছেন পাঁচজন। তারা হলেন— বিএনপির শাহ রিয়াজুল হান্নান, জামায়াতে ইসলামীর সালাহ উদ্দিন আইউবী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মনির হোসেন, জাতীয় পার্টির এনামুল কবির এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মানবেন্দ্র দেব।
প্রতিনিধি/টিবি

